শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

এক যুগেও চালু হয়নি জাজিরা ট্রমা সেন্টার, ঝুঁকিতে রোগীর জীবন


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

এক যুগেও চালু হয়নি জাজিরা ট্রমা সেন্টার, ঝুঁকিতে রোগীর জীবন
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতু ও আশপাশের মহাসড়কে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টারটি এক যুগের বেশি সময়েও চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরঞ্জামের অভাবে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসাকেন্দ্র। ফলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ছুটতে হচ্ছে ঢাকায়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে রোগীর জীবনহানির আশঙ্কা।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু সংলগ্ন মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় এখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কসহ আশপাশের এলাকায় দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে ১৫ শয্যার ট্রমা ইউনিট যুক্ত করে নির্মাণ করা হয় চারতলা ভবন। এর নিচতলায় রাখা হয় ট্রমা সেন্টারের জন্য নির্ধারিত কক্ষ। সেখানে জরুরি পুনরুজ্জীবন, এক্স-রে, পর্যবেক্ষণ, অস্ত্রোপচার এবং রোগীদের শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। তবে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রমা সেন্টারের জন্য তৈরি কক্ষগুলো এখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিচতলায় চলছে জরুরি বিভাগ ও ডেন্টাল ইউনিটের কার্যক্রম। আহত রোগীদের প্রাথমিক পুনরুজ্জীবনের জন্য নির্ধারিত কক্ষটি স্টোররুমে পরিণত হয়েছে, সেখানে রাখা হয়েছে মোটরসাইকেল। অবজারভেশন কক্ষে চলছে পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকের কার্যক্রম। আর অস্ত্রোপচারের জন্য নির্মিত অপারেশন থিয়েটারটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে শিবচর ও জাজিরায় দুটি ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছিল। শিবচরের কেন্দ্রটি চালু থাকলেও জাজিরারটি এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে পদ্মা সেতুর আশপাশের সড়কে দুর্ঘটনায় কারও হাত-পা ভাঙলে বা গুরুতর আঘাত পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে আহতদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও আশঙ্কা করছেন, শরীয়তপুরের মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে যানবাহনের চলাচল বাড়ার সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ট্রমা সেন্টারটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমান বাদশাহ জানান, পদ্মা সেতুর গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ট্রমা সেন্টারটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দ না পাওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তাঁর মতে, পদ্মা সেতুর প্রবেশমুখে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি চালু থাকলে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনীয় জনবলের সংকটই ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ার প্রধান কারণ। বিষয়টি জানিয়ে প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হচ্ছে। তবে এখনো কেন্দ্রটি চালুর বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


এক যুগেও চালু হয়নি জাজিরা ট্রমা সেন্টার, ঝুঁকিতে রোগীর জীবন

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পদ্মা সেতু ও আশপাশের মহাসড়কে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টারটি এক যুগের বেশি সময়েও চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরঞ্জামের অভাবে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসাকেন্দ্র। ফলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ছুটতে হচ্ছে ঢাকায়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে রোগীর জীবনহানির আশঙ্কা।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু সংলগ্ন মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় এখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কসহ আশপাশের এলাকায় দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে ১৫ শয্যার ট্রমা ইউনিট যুক্ত করে নির্মাণ করা হয় চারতলা ভবন। এর নিচতলায় রাখা হয় ট্রমা সেন্টারের জন্য নির্ধারিত কক্ষ। সেখানে জরুরি পুনরুজ্জীবন, এক্স-রে, পর্যবেক্ষণ, অস্ত্রোপচার এবং রোগীদের শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। তবে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রমা সেন্টারের জন্য তৈরি কক্ষগুলো এখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিচতলায় চলছে জরুরি বিভাগ ও ডেন্টাল ইউনিটের কার্যক্রম। আহত রোগীদের প্রাথমিক পুনরুজ্জীবনের জন্য নির্ধারিত কক্ষটি স্টোররুমে পরিণত হয়েছে, সেখানে রাখা হয়েছে মোটরসাইকেল। অবজারভেশন কক্ষে চলছে পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকের কার্যক্রম। আর অস্ত্রোপচারের জন্য নির্মিত অপারেশন থিয়েটারটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে শিবচর ও জাজিরায় দুটি ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছিল। শিবচরের কেন্দ্রটি চালু থাকলেও জাজিরারটি এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে পদ্মা সেতুর আশপাশের সড়কে দুর্ঘটনায় কারও হাত-পা ভাঙলে বা গুরুতর আঘাত পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে আহতদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও আশঙ্কা করছেন, শরীয়তপুরের মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে যানবাহনের চলাচল বাড়ার সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ট্রমা সেন্টারটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমান বাদশাহ জানান, পদ্মা সেতুর গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ট্রমা সেন্টারটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দ না পাওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তাঁর মতে, পদ্মা সেতুর প্রবেশমুখে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি চালু থাকলে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনীয় জনবলের সংকটই ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ার প্রধান কারণ। বিষয়টি জানিয়ে প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হচ্ছে। তবে এখনো কেন্দ্রটি চালুর বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream