শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা: প্রধানমন্ত্রী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবহেলা না করে তাদের কথা শোনা, পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যের পরিচয় নয়। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাও স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করতে এ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তির মর্যাদা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন কাউকে অবহেলা কিংবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর প্রয়োজন ও অনুভূতি বুঝতে হবে। সম্মানের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনা এবং সহায়তার সুযোগ তৈরি করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন গুরুত্ব পাবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য এখন বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশেও অনেক মানুষ এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। তবে সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব, পর্যাপ্ত সেবার সীমাবদ্ধতা এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি, মান ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। গর্ভবতী নারী, শিশু-কিশোর এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে বা সাহায্য চাইতে কাউকে সংকোচে পড়তে হবে না। প্রতিটি মানুষ যেন মর্যাদা, আশা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপদ ও অর্থবহ জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।

পরিশেষে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সবার সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং দিবসটির সার্বিক সাফল্য প্রত্যাশা করেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবহেলা না করে তাদের কথা শোনা, পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যের পরিচয় নয়। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাও স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করতে এ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তির মর্যাদা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন কাউকে অবহেলা কিংবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর প্রয়োজন ও অনুভূতি বুঝতে হবে। সম্মানের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনা এবং সহায়তার সুযোগ তৈরি করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন গুরুত্ব পাবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য এখন বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশেও অনেক মানুষ এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। তবে সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব, পর্যাপ্ত সেবার সীমাবদ্ধতা এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি, মান ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। গর্ভবতী নারী, শিশু-কিশোর এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে বা সাহায্য চাইতে কাউকে সংকোচে পড়তে হবে না। প্রতিটি মানুষ যেন মর্যাদা, আশা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপদ ও অর্থবহ জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।

পরিশেষে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সবার সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং দিবসটির সার্বিক সাফল্য প্রত্যাশা করেন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream