মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইংকে, যার বিরুদ্ধে আইসিসিতে একটি মামলা আছে এবং যিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। তিনি সার্বিয়ার মিলোশেভিচের মতো রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছেন। সার্বিয়ার মিলোশেভিচ লক্ষ লক্ষ বসনিয়ান মুসলমানকে হত্যা করেছিলেন। তাকে আইসিসিতে বিচার করা হয়েছিল। মিন অং হ্লাইংয়ের অপরাধও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় বিচারাধীন।
২০১২ সালে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা ও মুসলমানদের ওপর বৌদ্ধ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চালানো হয়। এর জন্য কফি আনান কমিশন একটি রিপোর্ট পেশ করে। যেদিন রিপোর্ট পেশ করা হয়, সেদিনই মিন অং হ্লাইং রোহিঙ্গাদের ওপর অপারেশন চালান।
আসিয়ান ও অন্যান্য সহযোগী দেশ মিন অং হ্লাইংয়ের সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। আপনি তাহলে রোহিঙ্গা ইস্যু এবং মিয়ানমারের শরণার্থী সংকট নিয়ে মিয়ানমারের যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কেন?
ফিলিস্তিনে শরণার্থীদের জন্য আপনি যদি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেও আমন্ত্রণ জানান, ইসরায়েলকে কি স্বীকৃতি দেন? এই দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
রাখাইন প্রদেশে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে আপনি কীভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন?
২০১২ -২০১৭ এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গারা নৌকায় করে নিজের জীবন বাজি রেখে মালয়েশিয়ায় এসেছিল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। তাদেরকে নিরাপদ স্থান থেকে আবার ফায়ারিং স্কোয়াডে পাঠাচ্ছেন আপনি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তার ভিত্তিতে। চলমান সংঘাতের মধ্যে তাদের জীবনকে আবারও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।
ফয়সাল আলম
রহিঙ্গা হিউমান রাইট এক্টিভিস্ট
মতামত