শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতির জাল, যা জানাল গোয়েন্দারা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতির জাল, যা জানাল গোয়েন্দারা
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এসব অপরাধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে ভাড়ায় নিয়োগ করা পেশাদার ডাকাতরা। তাদের অনেকেই গ্রেফতার হলেও অপরাধের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা থেকে যাচ্ছে আড়ালে।

বিমানবন্দর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ করে দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায় চক্রের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর জামিনে মুক্ত হতে কিছু আইনজীবীর সঙ্গে তাদের চুক্তি থাকার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব আইনজীবী বাকিতে আইনি সহায়তা দেন।

এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়েছেন চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া থানার সামাদ গাজী বাড়ির বাসিন্দা মো. খোরশেদ। গত ৬ জুলাই দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাঁকে কালো গাড়িতে তুলে নেয়। পরে চোখ ও হাত-পা বেঁধে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তাঁকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ফেলে রেখে যায়।

খোরশেদের মতো প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কগুলোতে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ভুক্তভোগীদের গাড়িতে তোলে, হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় এবং পরে তাঁদের কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঢাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। কেউ কেউ বিদেশ থেকে এসেও অপরাধ করে আবার চলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এসব ডাকাতি চালানো হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী লুট করা মালামাল নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর ডাকাতেরা পারিশ্রমিক পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি কয়েকটি আলোচিত ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন একাধিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব অপরাধে ভাড়াটে ডাকাতদের ব্যবহার করা হলেও নেপথ্যে থাকা মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। চক্রের অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, বিমানবন্দর ও উত্তরার এলাকায় অপরাধ ঘটিয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। তাদের গ্রেফতার করা হলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ায়। তবে পুলিশের তৎপরতার কারণে ডাকাতির ঘটনা অনেকটাই কমেছে বলে জানান তিনি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতির জাল, যা জানাল গোয়েন্দারা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এসব অপরাধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে ভাড়ায় নিয়োগ করা পেশাদার ডাকাতরা। তাদের অনেকেই গ্রেফতার হলেও অপরাধের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা থেকে যাচ্ছে আড়ালে।

বিমানবন্দর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ করে দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায় চক্রের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর জামিনে মুক্ত হতে কিছু আইনজীবীর সঙ্গে তাদের চুক্তি থাকার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব আইনজীবী বাকিতে আইনি সহায়তা দেন।

এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়েছেন চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া থানার সামাদ গাজী বাড়ির বাসিন্দা মো. খোরশেদ। গত ৬ জুলাই দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাঁকে কালো গাড়িতে তুলে নেয়। পরে চোখ ও হাত-পা বেঁধে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তাঁকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ফেলে রেখে যায়।

খোরশেদের মতো প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কগুলোতে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ভুক্তভোগীদের গাড়িতে তোলে, হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় এবং পরে তাঁদের কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঢাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। কেউ কেউ বিদেশ থেকে এসেও অপরাধ করে আবার চলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এসব ডাকাতি চালানো হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী লুট করা মালামাল নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর ডাকাতেরা পারিশ্রমিক পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি কয়েকটি আলোচিত ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন একাধিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব অপরাধে ভাড়াটে ডাকাতদের ব্যবহার করা হলেও নেপথ্যে থাকা মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। চক্রের অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, বিমানবন্দর ও উত্তরার এলাকায় অপরাধ ঘটিয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। তাদের গ্রেফতার করা হলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ায়। তবে পুলিশের তৎপরতার কারণে ডাকাতির ঘটনা অনেকটাই কমেছে বলে জানান তিনি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream