শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

‘আমরাই করে দেখাব’—২০৪৭ নিয়ে মোদির নতুন বার্তা



‘আমরাই করে দেখাব’—২০৪৭ নিয়ে মোদির নতুন বার্তা
‘আমরাই করে দেখাব’—২০৪৭ নিয়ে মোদির নতুন বার্তা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি সম্পূর্ণ উন্নত ও বিকশিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি নতুন স্লোগান উন্মোচন করেছেন। নতুন এই স্লোগানটি হলো— আমরাই করে দেখাব। সুদূরপ্রসারী ও দূরদর্শী নীতি এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই এই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে  তিনি জানিয়েছেন। সরকারপ্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করার বিশেষ দিনটিতে আয়োজিত 'বিকশিত ভারত সংকল্প সভা'-য় বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই নতুন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটের রাজনীতির সমীকরণ ধরে সমাজকে বিভক্ত করে ফেলা দেশের অন্যতম প্রধান একটি বাধা। এই ভেদাভেদের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন একজন কৃষকের জমি সেচের জলের অভাবে শুকিয়ে যায়, তখন কি সেই সমস্যাটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট একটি জাত বা বর্ণের মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে? কিংবা যখন কোথাও বিদ্যুৎ থাকে না, তখন অন্ধকার কি কেবল একটিমাত্র সম্প্রদায়ের ঘরেই নেমে আসে? এর উত্তর স্পষ্ট, না। তাই যদি কোনো সমস্যা দেশের প্রতিটি মানুষের সার্বিক সমস্যা হয়ে থাকে, তবে তার সমাধানও সবার জন্য একইভাবে হতে হবে।

আজকে দেশবাসী উন্নত ভারতের যে স্বপ্ন দেখছে, তা নিশ্চিতভাবেই বাস্তবায়িত হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন আর ভারতের থমকে যাওয়ার কিংবা পিছিয়ে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। শতবর্ষ আগে আমাদের জনসংখ্যা ছিল ৪০ কোটিরও কম, আর আজ সেই সংখ্যা ১৪০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল ১৪০ কোটি নাগরিক সবাই একসঙ্গে হাত মিলিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি বিকশিত ভারত নির্মাণ করবেন এবং তা অবশ্যই সম্ভব হবে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি আওড়ান, আমরাই করে দেখাব।

তিনি দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনাগুলোর ধারাবাহিক বিবরণ দিয়ে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠন; আমরাই করে দেখাব; বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ তিন দেশের তালিকায় প্রবেশ, আমরাই করে দেখাব; আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা; আমরাই করে দেখাব; বিশ্বের অন্যতম প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বা উৎপাদন কেন্দ্র হওয়া; আমরাই করে দেখাব; অলিম্পিক গেমসের আয়োজন করা; আমরাই করে দেখাব; এবং মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাইলফলক স্থাপন; আমরাই করে দেখাব। দেশবাসীর মধ্যে বর্তমানে যে শক্তি, উদ্দীপনা এবং আত্মবিশ্বাস দৃশ্যমান, তাকে তিনি অসাধারণ বলে আখ্যা দেন।

সম্প্রতি ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটে যাওয়া এক রোমাঞ্চকর ঘটনা ও ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কো-পাইলটের ছুরি দিয়ে আক্রমণের মুখে গুরুতর জখম হয়েও ইসরায়েলগামী বিমানটিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন ওই ভারতীয় পাইলট। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের এই বীরত্বের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সারা বিশ্ব ভারতের এই সাহসী পাইলটের প্রশংসা করছে এবং তাঁর কথা বলছে। কিন্তু সেই দিনও খুব বেশি দূরে নয়, যখন গোটা বিশ্ব ভারতে তৈরি বিমান বা 'মেড ইন ইন্ডিয়া' এয়ারক্রাফটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে। তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু সেইসব সমস্যা সমাধানের জন্য দেশজুড়ে ১৪০ কোটি সমাধানও প্রস্তুত রয়েছে।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারপ্রধান হিসেবে নরেন্দ্র মোদির যাত্রা শুরু হয়েছিল। টানা তিন দফায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ধারাবাহিকভাবে তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। টানা ২৫ বছর ধরে রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকার এই বিশেষ দিনটির কথা স্মরণ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন, তখন দূরস্বপ্নেও ভাবেননি যে কাজের এমন একটি দীর্ঘ মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবেন। ভারতের কোটি কোটি নাগরিক তাঁর ওপর যে অপরিসীম আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার জন্য দেশবাসীর সামনে মাথা নত করেন তিনি। তার কথায়, দেশের সাধারণ মানুষই তাঁর কাছে ঈশ্বরের রূপ আর ভারতীয় জনতা পার্টির কঠোর পরিশ্রমী কর্মী বাহিনীই তাঁর মূল শক্তি। একই সঙ্গে তিনি বিজেপি, এনডিএ জোটের সমস্ত সহকর্মী এবং দেশের গণতন্ত্রের প্রতি যাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সূত্র: এনডিটিভি

বিষয় : মোদি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


‘আমরাই করে দেখাব’—২০৪৭ নিয়ে মোদির নতুন বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি সম্পূর্ণ উন্নত ও বিকশিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি নতুন স্লোগান উন্মোচন করেছেন। নতুন এই স্লোগানটি হলো— আমরাই করে দেখাব। সুদূরপ্রসারী ও দূরদর্শী নীতি এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই এই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে  তিনি জানিয়েছেন। সরকারপ্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করার বিশেষ দিনটিতে আয়োজিত 'বিকশিত ভারত সংকল্প সভা'-য় বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই নতুন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটের রাজনীতির সমীকরণ ধরে সমাজকে বিভক্ত করে ফেলা দেশের অন্যতম প্রধান একটি বাধা। এই ভেদাভেদের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন একজন কৃষকের জমি সেচের জলের অভাবে শুকিয়ে যায়, তখন কি সেই সমস্যাটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট একটি জাত বা বর্ণের মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে? কিংবা যখন কোথাও বিদ্যুৎ থাকে না, তখন অন্ধকার কি কেবল একটিমাত্র সম্প্রদায়ের ঘরেই নেমে আসে? এর উত্তর স্পষ্ট, না। তাই যদি কোনো সমস্যা দেশের প্রতিটি মানুষের সার্বিক সমস্যা হয়ে থাকে, তবে তার সমাধানও সবার জন্য একইভাবে হতে হবে।

আজকে দেশবাসী উন্নত ভারতের যে স্বপ্ন দেখছে, তা নিশ্চিতভাবেই বাস্তবায়িত হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন আর ভারতের থমকে যাওয়ার কিংবা পিছিয়ে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। শতবর্ষ আগে আমাদের জনসংখ্যা ছিল ৪০ কোটিরও কম, আর আজ সেই সংখ্যা ১৪০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল ১৪০ কোটি নাগরিক সবাই একসঙ্গে হাত মিলিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি বিকশিত ভারত নির্মাণ করবেন এবং তা অবশ্যই সম্ভব হবে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি আওড়ান, আমরাই করে দেখাব।

তিনি দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনাগুলোর ধারাবাহিক বিবরণ দিয়ে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠন; আমরাই করে দেখাব; বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ তিন দেশের তালিকায় প্রবেশ, আমরাই করে দেখাব; আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা; আমরাই করে দেখাব; বিশ্বের অন্যতম প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বা উৎপাদন কেন্দ্র হওয়া; আমরাই করে দেখাব; অলিম্পিক গেমসের আয়োজন করা; আমরাই করে দেখাব; এবং মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাইলফলক স্থাপন; আমরাই করে দেখাব। দেশবাসীর মধ্যে বর্তমানে যে শক্তি, উদ্দীপনা এবং আত্মবিশ্বাস দৃশ্যমান, তাকে তিনি অসাধারণ বলে আখ্যা দেন।

সম্প্রতি ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটে যাওয়া এক রোমাঞ্চকর ঘটনা ও ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কো-পাইলটের ছুরি দিয়ে আক্রমণের মুখে গুরুতর জখম হয়েও ইসরায়েলগামী বিমানটিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন ওই ভারতীয় পাইলট। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের এই বীরত্বের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সারা বিশ্ব ভারতের এই সাহসী পাইলটের প্রশংসা করছে এবং তাঁর কথা বলছে। কিন্তু সেই দিনও খুব বেশি দূরে নয়, যখন গোটা বিশ্ব ভারতে তৈরি বিমান বা 'মেড ইন ইন্ডিয়া' এয়ারক্রাফটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে। তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু সেইসব সমস্যা সমাধানের জন্য দেশজুড়ে ১৪০ কোটি সমাধানও প্রস্তুত রয়েছে।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারপ্রধান হিসেবে নরেন্দ্র মোদির যাত্রা শুরু হয়েছিল। টানা তিন দফায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ধারাবাহিকভাবে তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। টানা ২৫ বছর ধরে রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকার এই বিশেষ দিনটির কথা স্মরণ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন, তখন দূরস্বপ্নেও ভাবেননি যে কাজের এমন একটি দীর্ঘ মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবেন। ভারতের কোটি কোটি নাগরিক তাঁর ওপর যে অপরিসীম আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার জন্য দেশবাসীর সামনে মাথা নত করেন তিনি। তার কথায়, দেশের সাধারণ মানুষই তাঁর কাছে ঈশ্বরের রূপ আর ভারতীয় জনতা পার্টির কঠোর পরিশ্রমী কর্মী বাহিনীই তাঁর মূল শক্তি। একই সঙ্গে তিনি বিজেপি, এনডিএ জোটের সমস্ত সহকর্মী এবং দেশের গণতন্ত্রের প্রতি যাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সূত্র: এনডিটিভি


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream