শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়ায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। তবে চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৭ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম সামান্য পরিবর্তিত হয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৩০ ডলারে ছিল।
মার্কিন ডলারের মূল্য বাড়ায় অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা ক্রেতাদের জন্য ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডার মতে, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারের ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় বড় পরিবর্তন এলে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটির কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। পাশাপাশি আগের দুই মাসের নন-ফার্ম পেরোলের পরিসংখ্যানও নিম্নমুখী সংশোধন করা হয়েছে। ফলে অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাজারে কমেছে।
তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ডিসেম্বরে ফেডের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনো ৮৭ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলে এ তথ্য দেখানো হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই হারে প্লাটিনামের দাম কমে হয়েছে ১ হাজার ৭০৯ দশমিক ৭৫ ডলার। প্যালাডিয়ামের দামও শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
মতামত