বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ডিমলায় যুবককে মাটিচাপা, ঘাতকের বাড়ির পাশে থেকে মাটি খুড়ে মিলল লাশ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ডিমলায় যুবককে মাটিচাপা, ঘাতকের বাড়ির পাশে থেকে মাটি খুড়ে মিলল লাশ

ঢাকায় রাকিবুল ইসলাম (১৯) নামে এক যুবককে হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামুন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া)মামুনের বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কাফরুল থানা ও ডিমলা থানা পুলিশের যৌথ দল ওই লাশ উদ্ধার করে। পরে নীলফামারী জেলা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।হত্যার শিকার রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার উদ্যমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদিমুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মামুন মিয়া ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া) এলাকার আফসার আলীর ছেলে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল কোচিং করার সূত্রে মোবাইল ফোনে মামুন মিয়ার সঙ্গে রাকিবুলের পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আসামিরা রাকিবুলকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রাকিবুলের মরদেহ একটি বড় কাগজের কার্টনে ঢোকানো হয়। পরে কালো পলিথিন, সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ও কস্টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রিকশা ও বাসযোগে ডিমলায় মামুনের নিজ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে গোবর ফেলার স্থানসংলগ্ন মাটির নিচে লাশটি পুঁতে রাখা হয় ।

এদিকে, রাকিবুল জীবিত রয়েছেন দাবি করে তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসামিরা। পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাকিবুলের পরিবার ১৩টি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ টাকা প্রদান করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে রাকিবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ডিএমপির কাফরুল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা নং-০৫, তারিখ ০৫/১০/২০২৬; দণ্ডবিধির ৩৪৪/৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) শ্যামল কুমার হালদার ঢাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী লাশ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে কাফরুল থানা পুলিশের একটি দল ডিমলা থানায় উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধারে আইনি সহযোগিতার জন্য অধিযাচন করে। পরে কাফরুল ও ডিমলা থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল মামুনের দেখানো স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত লাশ উদ্ধার করেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ডিমলায় যুবককে মাটিচাপা, ঘাতকের বাড়ির পাশে থেকে মাটি খুড়ে মিলল লাশ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকায় রাকিবুল ইসলাম (১৯) নামে এক যুবককে হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামুন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া)মামুনের বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কাফরুল থানা ও ডিমলা থানা পুলিশের যৌথ দল ওই লাশ উদ্ধার করে। পরে নীলফামারী জেলা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।হত্যার শিকার রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার উদ্যমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদিমুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মামুন মিয়া ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া) এলাকার আফসার আলীর ছেলে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল কোচিং করার সূত্রে মোবাইল ফোনে মামুন মিয়ার সঙ্গে রাকিবুলের পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আসামিরা রাকিবুলকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রাকিবুলের মরদেহ একটি বড় কাগজের কার্টনে ঢোকানো হয়। পরে কালো পলিথিন, সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ও কস্টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রিকশা ও বাসযোগে ডিমলায় মামুনের নিজ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে গোবর ফেলার স্থানসংলগ্ন মাটির নিচে লাশটি পুঁতে রাখা হয় ।

এদিকে, রাকিবুল জীবিত রয়েছেন দাবি করে তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসামিরা। পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাকিবুলের পরিবার ১৩টি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ টাকা প্রদান করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে রাকিবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ডিএমপির কাফরুল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা নং-০৫, তারিখ ০৫/১০/২০২৬; দণ্ডবিধির ৩৪৪/৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) শ্যামল কুমার হালদার ঢাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী লাশ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে কাফরুল থানা পুলিশের একটি দল ডিমলা থানায় উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধারে আইনি সহযোগিতার জন্য অধিযাচন করে। পরে কাফরুল ও ডিমলা থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল মামুনের দেখানো স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত লাশ উদ্ধার করেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream