রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ বছর উপজেলায় পাঁচটি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান।
সভায় পাঁচটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ও বিজিবির টহল বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক আনসার সদস্য মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটিকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আমেনা মারজান বলেন, “বাঘাইছড়িতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য ঐতিহ্য রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবটি যাতে সবাই নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
তিনি পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তব্য দেন বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দীন মজুমদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরুল আলম, বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ খাজা এবং ২৭ বিজিবির প্রতিনিধি।
এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বাঘাইছড়ি উপজেলার পাঁচটি পূজামণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা, স্থানীয় মন্দিরের প্রতিনিধিসহ রিপোর্টার্স ইউনিটি ও প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে আয়োজনের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
সভায় পাঁচটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
মতামত