কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সড়কির আঘাতে টেঙ্গুর (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন চড়–ইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গুর একই গ্রামের মৃত দৈয়ব মন্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাহার মেম্বার ও নিহত টেঙ্গুরের বড়ভাই রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩দিন (২৮ সেপ্টেম্বর) আগে রাতে ভারত থেকে আসা মাদককে কেন্দ্র করে আজাহার মেম্বারের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে পটলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত দু’দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আজাহার মেম্বার ও পটল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পটলের ছোট ভাই টেঙ্গুর পেটে সড়কিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন সুমন মিয়া (৫০), হাদু মন্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মন্ডল (৬০) ও রাজু মন্ডল (৩০)। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, সীমান্তের চড়ইকুড়ি গ্রামের বিএনপি’র আজাহার মেম্বার ও পটল পক্ষের মধ্যে গত দুই-তিন দিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে টেঙ্গুর নামে একজন নিহত এবং অন্তত ৮ আহত হয়েছে। ভারত থেকে আসা মাদক বা পাতার বিড়িকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফা টেঙ্গুর নামে একজন নিহত হয়েছে। নিহত টেঙ্গুর কৃষি কাজ করে বলে জানা গেছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
মতামত