ফরিদপুরের সদরপুরে দেওয়ানি মামলায় ডিক্রিকৃত ০.৬১ শতাংশ জমির দখল বাদীকে বুঝিয়ে দিতে স্থাপনা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ডিক্রিকৃত জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের জন্য সিভিল কোর্ট কমিশনার নিয়োগ এবং দখল বুঝিয়ে দিতে দখলী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সদরপুর সিভিল জজ আদালতের সিভিল জজ সোনিয়া আক্তার ডলি গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়ানি মামলা নং ১৪/২০১২-এর আদেশে এসব নির্দেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর ডিক্রিদার মো. চান মিয়াকে তফশিলভুক্ত জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি স্বত্ব প্রচার ও খাস দখল সংক্রান্ত। মামলায় বাদী মো. চান মিয়া ৪ মে ২০২৬ তারিখে একতরফা সূত্রে আরজির তফশিলভুক্ত ভূমির মধ্যে ০.৬১ শতাংশ জমির ডিক্রি পান।
এরপর ৩০ জুলাই আদালতের জারীকারক ডিক্রিদারকে জমির দখল বুঝিয়ে দিতে সরেজমিনে গেলে জমি পরিমাপ করে ০.৬১ শতাংশ নির্ধারণ এবং ডিক্রিকৃত ভূমিতে থাকা বিবাদীপক্ষের টিনের দোকানঘর অপসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন। পাশাপাশি দখল বুঝিয়ে দিতে পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।পরে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ডিক্রিকৃত তফশিলভুক্ত সম্পত্তি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণের জন্য সিভিল কোর্ট কমিশনার হিসেবে রুবেল শেখকে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে দখলী পরোয়ানা জারি করে নাজির, জারীকারক ও পুলিশের সহায়তায় ডিক্রিকৃত ভূমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের তফশিল অনুযায়ী, জমিটি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ১২ নম্বর পূর্বকান্দি মৌজায় অবস্থিত। আরএস খতিয়ান ৯৩০/১, এসএ খতিয়ান ৭৪৩ এবং বিএস খতিয়ান ১১৯২-এর অন্তর্ভুক্ত আরএস ২৬৬৮ ও হাল ৪২১৩ নম্বর দাগের ৪৩ শতাংশ জমির মধ্যে উত্তর-পূর্ব কোণের ০.৬১ শতাংশ ভূমি ডিক্রিকৃত হয়েছে। আদালতের কলমী নকশায় ওই জমি ‘ক’ চিহ্নিত করা হয়েছে।
আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বেলিফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তফশিল অনুযায়ী, জমিটির উত্তরে রাস্তা, দক্ষিণে বাদীর জমি, পূর্বে খাল এবং পশ্চিমে বাদীর জমি রয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সিভিল কোর্ট কমিশনার, নাজির, জারীকারক ও পুলিশের সহায়তায় ডিক্রিকৃত তফশিলভুক্ত জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডিক্রিকৃত ভূমির দখল বাদী মো. চান মিয়াকে বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মামলার বাদী মো. চান মিয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দখল বুঝে পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ মামলায় বাদী ছিলেন মো. চান মিয়া। বিবাদী হিসেবে ছিলেন রফিক মাতুব্বর, রেজাউল মাতুব্বর ও সফিক ওরফে শুকুর মাতুব্বর।
মতামত