বাগেরহাটের রামপালে মৎস্য ঘের দখলকে কেন্দ্র করে এক ঘের ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঘের ব্যবসায়ী রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামপাল উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে হাফেজ কবির উদ্দিন আলিপুর মৌজায় অবস্থিত একখণ্ড জমি নিজের এবং বাকি জমি লিজ নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে মাছ চাষ করে আসছিলেন। পূর্বেও প্রতিপক্ষরা উক্ত জমি নিজেদের দাবি করলে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপস্থিতিতে শালিস-বিচারে তাদের কোনো স্বত্ব নেই বলে প্রমাণিত হয় এবং তারা লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন।
তবে সম্প্রতি প্রতিপক্ষ দুর্গাপুর গ্রামের এলাকা বেগম (৫৫), শাহীন শেখ (৩৭), রোকন মীর (৪৫), রাজী শেখ (২৮) ও সিয়াম শেখসহ (১৮) অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০ জন উক্ত ঘের জোরপূর্বক দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তারা ঘের মাপজোখ করতে গেলে ভিকটিম বাধা দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয় এবং তার সাথে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ৮:০০ টার দিকে হাফেজ কবির উদ্দিন তার ঘেরে মাছ ধরার সময় অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, বাঁশের লাঠি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাঠিপেটা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘেরের বেড়িবাঁধে তুলে কয়েক দফায় মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
পরে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হামলায় তার মাথা, দুই পা, বুক, পিঠ ও বাহুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়।
এ ঘটনায় আহত হাফেজ কবির উদ্দিন বাদী হয়ে রামপাল থানায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ রাজীব আল রশিদ জানান, “উক্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মতামত