বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

গজারি গাছ রক্ষায় বন বিভাগের নজরদারি কতটা কার্যকর? রাংটিয়ায় প্রকাশ্যে নিধন



গজারি গাছ রক্ষায় বন বিভাগের নজরদারি কতটা কার্যকর? রাংটিয়ায় প্রকাশ্যে নিধন
গজারি গাছ রক্ষায় বন বিভাগের নজরদারি কতটা কার্যকর? রাংটিয়ায় প্রকাশ্যে নিধন

ভারতীয় সীমান্তবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের গজনীর বনাঞ্চলে দিনের বেলায় গজারি গাছ কেটে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বনাঞ্চলের ভেতরে প্রকাশ্যে গাছ কাটার ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের নজরে না আসায় মাঠপর্যায়ে বন বিভাগের নজরদারি ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। 

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে মঙ্গলবার দিনের বেলায় একটি গজারি গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। পরে কাটা গাছটি কয়েকটি অংশে ভাগ করে বন বিভাগের কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে রাখা হয়েছে বলে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। 

স্থানীয় সচেতন কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, বনাঞ্চলে  দিনের বেলায় গাছ কাটার ঘটনা ঘটলেও যদি তা বন বিভাগের নজরে না আসে, তাহলে মাঠপর্যায়ের তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর- এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। 

তাদের মতে, এ ঘটনায় বনকর্মীদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি আইনগতভাবে নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলেও তারা উল্লেখ করেন। 

শুধু গাছ নিধন নয়, গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় , নুড়ি-পাথর উত্তোলনসহ নানা কর্মকাণ্ডেও বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্র গজনী অবকাশ এলাকার আশপাশের বনসম্পদও বিভিন্নভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও বনভূমির কাছাকাছি পাথর উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড বন বিভাগের নজরের বাইরে কীভাবে চলে— এ প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা। 

এ বিষয়ে গজনী বিটের দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ জানান, গাছ কাটার তথ্যটি বন বিভাগের কাছে পৌঁছা মাত্র তারা কাটা গজারি গাছটি জব্দ করেন। গাছটি একটি কুচক্রী মহল কেটে লোকানোর চেষ্টা করে, বন বিভাগের কাছে খবরটি পৌঁছানো মাত্র তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন এবং খবরটি সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রধানকে জানান। গাছ কাটার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

গারো পাহাড়ের অবশিষ্ট বনসম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ আরও কঠোর অবস্থান নেবে। পাশাপাশি রাংটিয়া, গজনী অবকাশ ও আশপাশের বনাঞ্চলে নিয়মিত টহল, নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে অবৈধভাবে গাছ কাটা,  বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গজারি গাছ রক্ষায় বন বিভাগের নজরদারি কতটা কার্যকর? রাংটিয়ায় প্রকাশ্যে নিধন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতীয় সীমান্তবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের গজনীর বনাঞ্চলে দিনের বেলায় গজারি গাছ কেটে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বনাঞ্চলের ভেতরে প্রকাশ্যে গাছ কাটার ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের নজরে না আসায় মাঠপর্যায়ে বন বিভাগের নজরদারি ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। 

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে মঙ্গলবার দিনের বেলায় একটি গজারি গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। পরে কাটা গাছটি কয়েকটি অংশে ভাগ করে বন বিভাগের কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে রাখা হয়েছে বলে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। 

স্থানীয় সচেতন কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, বনাঞ্চলে  দিনের বেলায় গাছ কাটার ঘটনা ঘটলেও যদি তা বন বিভাগের নজরে না আসে, তাহলে মাঠপর্যায়ের তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর- এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। 

তাদের মতে, এ ঘটনায় বনকর্মীদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি আইনগতভাবে নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলেও তারা উল্লেখ করেন। 

শুধু গাছ নিধন নয়, গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় , নুড়ি-পাথর উত্তোলনসহ নানা কর্মকাণ্ডেও বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্র গজনী অবকাশ এলাকার আশপাশের বনসম্পদও বিভিন্নভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও বনভূমির কাছাকাছি পাথর উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড বন বিভাগের নজরের বাইরে কীভাবে চলে— এ প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা। 

এ বিষয়ে গজনী বিটের দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ জানান, গাছ কাটার তথ্যটি বন বিভাগের কাছে পৌঁছা মাত্র তারা কাটা গজারি গাছটি জব্দ করেন। গাছটি একটি কুচক্রী মহল কেটে লোকানোর চেষ্টা করে, বন বিভাগের কাছে খবরটি পৌঁছানো মাত্র তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন এবং খবরটি সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রধানকে জানান। গাছ কাটার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

গারো পাহাড়ের অবশিষ্ট বনসম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ আরও কঠোর অবস্থান নেবে। পাশাপাশি রাংটিয়া, গজনী অবকাশ ও আশপাশের বনাঞ্চলে নিয়মিত টহল, নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে অবৈধভাবে গাছ কাটা,  বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream