সরকার নির্ধারিত তেলের নতুন দাম কার্যকরের সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও বেআইনি মুনাফা লুটার অপচেষ্টার প্রতিবাদ করায় গ্রাহককে লোহার রড দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করেছে পাম্প মালিক।নীলফামারীর ডিমলায় রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটায় উপজেলার মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
গ্রাহকদের ওপর পাম্প মালিকের অতর্কিত হামলার এমন ঘটনায় ভারী লোহার অ্যাঙ্গেলের আঘাতে দুই গ্রাহক গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মাহাবুবুর রহমান (২৭) নামের এক যুবককে গুরুতর অবস্থায় ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে তেলের পাম্পটির যাবতীয় কার্যক্রম ও জ্বালানি বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের ঘোষণার পরপরই রোববার রাতে মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে মোটর সাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ নানা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১০টা থেকেই কর্মচারীরা পাম্প বন্ধ করে সটকে পড়েন।
মূল ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাম্পের ডিজিটাল সংযোগটি ইচ্ছে করে বন্ধ রাখা হয়। রাত ১২টার পর নতুন ও বর্ধিত দামে তেল বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা লুটতেই পাম্পটির স্বত্বাধিকারী মো: শাহ আলমের নির্দেশে কারসাজি করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।
রাত ১২টায় পাম্পের মালিক শাহ আলম পাম্পে এসে মেশিনে বর্ধিত মূল্য সেটআপ শুরু করলে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে অপেক্ষমাণ ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা প্রতিবাদ জানান এবং আগের মূল্যে তেল বিক্রির দাবি তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি ভারী লোহার অ্যাঙ্গেল বের করে গ্রাহকদের ওপর হামলা চালান।
এসময় কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও গ্রাহক মাহবুবুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
ঘটনার বিষয়ে ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং সেন্টারটির সব ধরণের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফিলিং স্টেশনের প্রোপাইটর মো: শাহ আলম বলেন, আমাদের কর্মচারীদের ওপরই প্রথম হামলা চালানো হয়েছে।আমার কাছে পূর্বের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ ছিলো। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি থাকায় সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
মতামত