দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ার পর এর প্রভাব পড়েছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর ঘাট–মৈনট ঘাট নৌরুটে। এ রুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও মোটরসাইকেল পারাপারের ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে লঞ্চে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা এবং স্পিডবোটে ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল পারাপারের ভাড়া ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে।
তবে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে এবং লঞ্চচালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নিজেরা ভাড়া বাড়ানোর পক্ষে নন বলে জানা গেছে। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তারা তা মেনে নেবেন।লঞ্চযাত্রী রুবেল বলেন, “মৈনট থেকে গোপালপুর যাওয়ার ক্ষেত্রে লঞ্চের ভাড়া বাড়েনি বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু গোপালপুর ঘাটে মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা এবং যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ঘাট সরকারি হওয়ায় ভাড়া বাড়ানোর আগে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত। কার অনুমতিতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, সেটি পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
স্পিডবোটযাত্রী পারভেজ বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। কিন্তু সে কারণে যাত্রীপ্রতি ২৫ টাকা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি যাত্রীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ভাড়া বাড়ানোর আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, “সরকারি নির্দেশনা ছাড়া ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। যদি ভাড়া বাড়ানো হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি দেখছি।”
উল্লেখ্য, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মতামত