গভীর রাতে আগুনে পুড়ে মারা গেছে একটি গাভীন গরু, কয়েকটি ছাগল ও হাঁস। আগুনে গোয়ালঘরটিও পুড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল এলাকায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কেরামত মাঝির পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্বশত্রুতার জেরে গোয়ালঘরে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে কেরামত মাঝির গোয়ালঘরে আগুন দেখতে পান তাঁর ভাইয়ের ছেলে অপু। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই গোয়ালঘরের ভেতরে থাকা একটি গাভীন গরু, কয়েকটি ছাগল ও হাঁস আগুনে পুড়ে মারা যায়। আগুনে গোয়ালঘরের বিভিন্ন অংশও পুড়ে যায়।
কেরামত মাঝির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে পূর্ববিরোধ রয়েছে এমন কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা নাম তাঁরা বলেননি। তাঁদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা হোক।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও আগুনের সূত্রপাত নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়ার ঘটনা—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে গৃহপালিত পশু ও হাঁস মারা গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত