মীর ইমরান, মাদারীপুর:
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের হুদু মোল্লার কান্দী এলাকায় বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিক মাদবরের বিরুদ্ধে এই হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সাদ্দাম মোড়ল, দেলোয়ার মোড়ল ও জাহাঙ্গীর মোড়লের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তিনটি বসতঘর ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ সময় একটি ঘরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তবে লুট হওয়া মালামালের সঠিক পরিমাণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রাজনৈতিক বিরোধ ও আহত:
ভুক্তভোগী দেলোয়ার মোড়ল জানান, আগে তাঁরা আতিক মাদবরের অনুসারী থাকলেও বর্তমানে তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আর এই রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার সময় স্বপন ঢালী নামে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বাধা দিতে গেলে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া হামলাকারীরা সুলতান মোড়লের স্ত্রীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তিন দিনেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও শিবচর থানায় এখনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আতিক মাদবর বলেন, "নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আমার সমর্থকরা থাকতে পারে, তবে আমি ছিলাম না। আমাকে অনর্থক দোষারোপ করা হচ্ছে। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে এর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
পুলিশের বক্তব্য
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, কুতুবপুরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এলাকায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত আছে।
এলাকায় পরপর সংঘর্ষ ও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
মতামত