শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

এআই কি সত্যিই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, সেটা কীভাবে?


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

এআই কি সত্যিই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, সেটা কীভাবে?
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি এর নিরাপত্তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কী ঘটতে পারে এ নিয়ে গবেষকদের একাংশ নানা আশঙ্কার কথা বলছেন। এমনকি কিছু পূর্বাভাসে আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এআই বিশেষজ্ঞদের সবাই এমন আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, এআই নিজে থেকে মানবজাতিকে ধ্বংস করার চেয়ে মানুষ যদি এই প্রযুক্তিকে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, সেটিই তুলনামূলক বড় ঝুঁকি হতে পারে।

এআইয়ের চরম ঝুঁকি নিয়ে যারা সতর্ক করেন, তাদের অনেক সময় ‘এআই ডুমার্স’ বলা হয়। তাঁরা কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।

অবকাঠামোয় হামলা

এআই গবেষকদের একটি অংশের আশঙ্কা, অত্যন্ত সক্ষম কোনো এআই ব্যবস্থা ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ গ্রিড বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় প্রবেশ করতে পারে। এসব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ এর সঙ্গে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি, এমনকি পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও যুক্ত করেছেন।

নিজেকে উন্নত করতে থাকা এআই

‘এআই ২০২৭’ নামে একটি গবেষণাপত্রে এমন একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যতের কথা বলা হয়েছে, যেখানে এআই ক্রমাগত নিজেকে উন্নত করতে করতে মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। পরে বিপুলসংখ্যক রোবটের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে চলে যেতে পারে।

গবেষণাটির একটি চরম পরিস্থিতিতে এমন এআই মানুষের স্বার্থের বদলে নিজের অস্তিত্ব ও লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের মতো ভয়াবহ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে এটি একটি অনুমাননির্ভর পরিস্থিতি, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে বিপর্যয়

আরেকটি বহুল আলোচিত ধারণা হলো ‘পেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার’। এতে কল্পনা করা হয়, কোনো এআইকে যদি শুধু নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে সেটি লক্ষ্য অর্জনের পথে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

এই ধারণার প্রবক্তাদের যুক্তি, এআইয়ের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ থাকা জরুরি নয়। বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে গিয়ে মানুষই তার পথে বাধা হয়ে উঠতে পারে।

আসল ঝুঁকি হয়তো অজানাই

কিছু গবেষক মনে করেন, ভবিষ্যতের অতিবুদ্ধিমান এআই কীভাবে মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এখনই তার নির্দিষ্ট চিত্র আঁকা কঠিন। মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম কোনো সত্তা তৈরি হলে তার আচরণ কী হবে, তা বর্তমান জ্ঞান দিয়ে পুরোপুরি অনুমান করা সম্ভব নাও হতে পারে।

তবে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সবাই যে একই মত পোষণ করেন, তা নয়। কেউ কেউ মনে করেন, মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার চেয়ে এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুল তথ্য ছড়ানো কিংবা মানুষে-মানুষে সংঘাত বাড়ার মতো ঝুঁকিগুলো বেশি বাস্তব ও তাৎক্ষণিক।

এ কারণে এআই নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফল ধরে রেখে ঝুঁকি কমানোর জন্য কার্যকর নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় আসছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআই কি সত্যিই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, সেটা কীভাবে?

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি এর নিরাপত্তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কী ঘটতে পারে এ নিয়ে গবেষকদের একাংশ নানা আশঙ্কার কথা বলছেন। এমনকি কিছু পূর্বাভাসে আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এআই বিশেষজ্ঞদের সবাই এমন আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, এআই নিজে থেকে মানবজাতিকে ধ্বংস করার চেয়ে মানুষ যদি এই প্রযুক্তিকে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, সেটিই তুলনামূলক বড় ঝুঁকি হতে পারে।

এআইয়ের চরম ঝুঁকি নিয়ে যারা সতর্ক করেন, তাদের অনেক সময় ‘এআই ডুমার্স’ বলা হয়। তাঁরা কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।

অবকাঠামোয় হামলা

এআই গবেষকদের একটি অংশের আশঙ্কা, অত্যন্ত সক্ষম কোনো এআই ব্যবস্থা ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ গ্রিড বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় প্রবেশ করতে পারে। এসব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ এর সঙ্গে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি, এমনকি পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও যুক্ত করেছেন।

নিজেকে উন্নত করতে থাকা এআই

‘এআই ২০২৭’ নামে একটি গবেষণাপত্রে এমন একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যতের কথা বলা হয়েছে, যেখানে এআই ক্রমাগত নিজেকে উন্নত করতে করতে মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। পরে বিপুলসংখ্যক রোবটের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে চলে যেতে পারে।

গবেষণাটির একটি চরম পরিস্থিতিতে এমন এআই মানুষের স্বার্থের বদলে নিজের অস্তিত্ব ও লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের মতো ভয়াবহ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে এটি একটি অনুমাননির্ভর পরিস্থিতি, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে বিপর্যয়

আরেকটি বহুল আলোচিত ধারণা হলো ‘পেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার’। এতে কল্পনা করা হয়, কোনো এআইকে যদি শুধু নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে সেটি লক্ষ্য অর্জনের পথে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

এই ধারণার প্রবক্তাদের যুক্তি, এআইয়ের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ থাকা জরুরি নয়। বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে গিয়ে মানুষই তার পথে বাধা হয়ে উঠতে পারে।

আসল ঝুঁকি হয়তো অজানাই

কিছু গবেষক মনে করেন, ভবিষ্যতের অতিবুদ্ধিমান এআই কীভাবে মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এখনই তার নির্দিষ্ট চিত্র আঁকা কঠিন। মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম কোনো সত্তা তৈরি হলে তার আচরণ কী হবে, তা বর্তমান জ্ঞান দিয়ে পুরোপুরি অনুমান করা সম্ভব নাও হতে পারে।

তবে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সবাই যে একই মত পোষণ করেন, তা নয়। কেউ কেউ মনে করেন, মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার চেয়ে এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুল তথ্য ছড়ানো কিংবা মানুষে-মানুষে সংঘাত বাড়ার মতো ঝুঁকিগুলো বেশি বাস্তব ও তাৎক্ষণিক।

এ কারণে এআই নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফল ধরে রেখে ঝুঁকি কমানোর জন্য কার্যকর নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় আসছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream