শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি আজও পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি আজও পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

একটি চিঠি সময়ের সঙ্গে কেবল পুরোনো কাগজ হয়ে যায় না, কখনো কখনো সেটিই হয়ে ওঠে জীবনের মূল্যবান স্মৃতি। তেমনই একটি চিঠি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ্। ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা ওই চিঠি তিনি পেয়েছিলেন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের পর।

২০০৪ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিটির সঙ্গে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে ছাইফুল্লাহকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল দুটি বই। চিঠিতে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়েছিল, ‘তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’ পাশাপাশি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

চিঠির শেষাংশে নিজের পরিচয় দিতে খালেদা জিয়া লিখেছিলেন—‘তোমাদের আপনজন।’ এই একটি বাক্যই শিশুমনে গভীর ছাপ ফেলেছিল বলে জানান ছাইফুল্লাহ। ২২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠিটির ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, সেই সময় থেকেই বেগম জিয়া তার কাছে একান্ত কাছের একজন হয়ে ওঠেন।

বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করা ছাইফুল্লাহ জানান, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি বৃত্তি পরীক্ষায় জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন। তাদের ব্যাচে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেড মিলিয়ে মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল।

সেই সময় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ছিল শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষ মর্যাদার বিষয়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দের পাশাপাশি সংবাদপত্রেও তাদের নিয়ে খবর প্রকাশিত হতো বলে স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

ছাইফুল্লাহ বলেন, একদিন ক্লাস চলার সময় তৎকালীন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত নুরুল কবির এসে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অফিসে যেতে বলেন। সেখানে প্যাকেটভর্তি উপহার দেখে তারা জানতে পারেন, এগুলো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাকেট খুলে বইয়ের সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা চিঠি দেখতে পেয়ে তিনি ও সহপাঠীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। চিঠিতে নিজের নামের নিচে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর দেখার সেই মুহূর্ত আজও তার মনে গেঁথে আছে।

ছাইফুল্লাহর কাছে সংরক্ষিত চিঠিটি এখন তার শৈশবের একটি বিশেষ স্মারক। তার মতে, একজন শিশুর সাফল্যকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার সেই উদ্যোগ তাকে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি আজও পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

একটি চিঠি সময়ের সঙ্গে কেবল পুরোনো কাগজ হয়ে যায় না, কখনো কখনো সেটিই হয়ে ওঠে জীবনের মূল্যবান স্মৃতি। তেমনই একটি চিঠি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ্। ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা ওই চিঠি তিনি পেয়েছিলেন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের পর।

২০০৪ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিটির সঙ্গে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে ছাইফুল্লাহকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল দুটি বই। চিঠিতে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়েছিল, ‘তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’ পাশাপাশি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

চিঠির শেষাংশে নিজের পরিচয় দিতে খালেদা জিয়া লিখেছিলেন—‘তোমাদের আপনজন।’ এই একটি বাক্যই শিশুমনে গভীর ছাপ ফেলেছিল বলে জানান ছাইফুল্লাহ। ২২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠিটির ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, সেই সময় থেকেই বেগম জিয়া তার কাছে একান্ত কাছের একজন হয়ে ওঠেন।

বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করা ছাইফুল্লাহ জানান, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি বৃত্তি পরীক্ষায় জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন। তাদের ব্যাচে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেড মিলিয়ে মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল।

সেই সময় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ছিল শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষ মর্যাদার বিষয়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দের পাশাপাশি সংবাদপত্রেও তাদের নিয়ে খবর প্রকাশিত হতো বলে স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

ছাইফুল্লাহ বলেন, একদিন ক্লাস চলার সময় তৎকালীন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত নুরুল কবির এসে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অফিসে যেতে বলেন। সেখানে প্যাকেটভর্তি উপহার দেখে তারা জানতে পারেন, এগুলো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাকেট খুলে বইয়ের সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা চিঠি দেখতে পেয়ে তিনি ও সহপাঠীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। চিঠিতে নিজের নামের নিচে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর দেখার সেই মুহূর্ত আজও তার মনে গেঁথে আছে।

ছাইফুল্লাহর কাছে সংরক্ষিত চিঠিটি এখন তার শৈশবের একটি বিশেষ স্মারক। তার মতে, একজন শিশুর সাফল্যকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার সেই উদ্যোগ তাকে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream