পটুয়াখালীর বাউফলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং এক ব্যবসায়ীকে জীবিত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফরিদ গাজী নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ফরিদ গাজী বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ জানিয়েছেন, মূল আহ্বায়ক কমিটির তালিকায় তাঁর নাম ছিল না।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫৩) বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস এলাকার বাসিন্দা এবং গৌরাঙ্গ চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে। তিনি ঢাকায় আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের পক্ষে এলাকায় প্রচারণামূলক পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানো হয়। এর পরপরই ফরিদ গাজী তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মুঠোফোনে তাঁকে জীবিত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ফোনালাপে ফরিদ গাজী নিজেকে পরিচয় দিয়ে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। ওই ফোনালাপের একটি রেকর্ড ভুক্তভোগীর কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, হুমকির পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, মূল আহ্বায়ক কমিটির তালিকায় ফরিদ গাজীর নাম ছিল না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা কমিটিতে নতুন করে কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেখানে তিনি সদস্য পদ পান। বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে। জেলা কমিটিই এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে কি না এবং মামলার ধারাগুলো কী, তা পুলিশ সূত্রে জানা যায়নি।
মতামত