রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলকে মেট্রোরেলের মাধ্যমে যুক্ত করতে গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত নতুন একটি মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট’ নামে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত রুটটির দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব ও নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দিতে গিয়ে শেষ হবে।
প্রকল্পের আওতায় গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার হবে পাতালপথ। আর আফতাবনগর থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত বাকি চার কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে উড়ালপথে।
মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটি কোনো একক সংস্থার অধীনে না থাকায় দরপত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ও মানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলে এটি হবে ঢাকার প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নির্মাণ ব্যয় ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ঢাকার অন্যান্য পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণেও সহায়ক হতে পারে।
এদিকে জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ উত্তরের ব্যয়ও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জাইকা এ দুই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত নতুন এই মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি যানজট কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত