দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরলে দিনব্যাপী পৃথক অভিযানে ১ হাজার ৩৯৩ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। অবৈধভাবে সার মজুদ করার দায়ে চার সার ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি সার গোডাউন সিলগালা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বিরল উপজেলা প্রশাসন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিরলের ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল ইসলাম। এ সময় মেসার্স শাহির ট্রেডার্সের (লাইসেন্স নং-৬০২৪) মালিক মো. নাসিম ইকবাল খোকনের গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা ৭৮২ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে টিএসপি ৪৪৬, ডিএপি ২৭৬, এমওপি ৪৬ ও ইউরিয়া ১৪ বস্তা। এ ঘটনায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় রাতে লাইসেন্সবিহীন খুচরা বিক্রেতা মো. আলিমের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে টিএসপি ৭, এমওপি ৭ ও ডিএপি ৩ বস্তা। তাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া উপজেলার ৪ নম্বর শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে অভিযান চালান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনোয়ার হোসেন। মেসার্স নবাব ট্রেডার্সের (লাইসেন্স নং-৬০৮৭) মালিক মশিউর রহমানের দোকানের দুটি ঘরে নিবন্ধন ছাড়া মজুত করা ৮৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে টিএসপি ৩২, ইউরিয়া ২৫, এমওপি ২৫ ও ডিএপি ২ বস্তা। এ ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে চককাঞ্চন মোড়ে পৃথক অভিযানে মেসার্স হাসেম ট্রেডার্সের (বিসিআইসি ডিলার) মালিক মো. হাসেমের ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে অবৈধভাবে মজুত করা ৫১০ বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ডিএপি ১০৩ ও এমওপি ৪০৭ বস্তা। এ ঘটনায় তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
মতামত