কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
এক স্বামী নিয়ে প্রকাশ্যে দুই বধুর মারামারির ঘটনা ঘটে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। সোমবার সকাল আট ঘটিকায় লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
দ্বিতীয় বধুর দাবি, তার স্বামী লিটন প্রথম বৌকে তালাক দিয়ে তাকে বিবাহ করছে এবং সেই তালাকনামা তার কাছে রয়েছে। অপরদিকে প্রথম স্ত্রীর দাবি, তার স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেনি বলে দাবি করেন প্রথম স্ত্রী।
দিবালোক দুই বৌয়ের এক স্বামী নিয়ে মারামারির এক পর্যায়ে স্থানীয়রা দুই বধুকে হেফাজতে নিয়ে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের রিপন মেম্বারের জিম্মায় দিয়ে দেয়।
আলোচিত দুই বধুর এক স্বামী লিটন সরকার রাজারহাট উপজেলার পশ্চিম দেবোত্তর মৌজাস্থ চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের পুত্র ও ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য।
এ ঘটনায় চায়না বাজারে জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সর্বসাধারণের মাঝে। স্থানীয়রা বলেন, একের পর এক কেলেংকারীতে সম্পৃক্ত লিটন কখনো ভূয়া ডাক্তার—অভিযোগের অন্ত নেই।
গতকাল লিটনের সঙ্গে আমার ফোনে কথা বলেছিলাম বলে সে ঢাকায় গেছে। পরে আমি বুঝতে পেড়েছি সে ঢাকায় যায়নি এবং সে আর একটা জায়গায় আছে। লিটন আমাকে বলছিলো, সে তার বৌকে ডিভোর্স হয়েছে। সেটি যাচাই করার জন্য এসেছি বলে জানান বধু খাদিজা সুলতানা মৌ।
আমার সংসার ছিলো, সেই সংসার আমি ত্যাগ করি। আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টারনি করা মানুষ। আমি পারতাম ওই বৌয়ের মতো মুখ ঢেকে চলে যাইতাম, উনি যদি হালাল খাইতো তাহলে এতোগুলা বিয়ে মেনে নিতেননা। বাসা কোথায় জানতে চাইলে বলেন, রংপুরের শালবন থেকে এসেছি।
এ সময় ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউপি সদস্য লিটন সরকার বলেন, আমিতো বিয়ে করছি। তাহলে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই বধুর কি বিষয়ে মারামারি ও নববধূ কত নম্বর স্ত্রী জানতে চাইলে সটকে পড়েন।
গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রিপন বলেন, আমি ফজরে পাট কিনতে সরিষাবাড়ি হাটে যাই। ওখান থেকে এসে শুনতে পাই তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুজন নারী মারামারি করে। ফোনে জানতে পেরে আসলাম। এসে দুজনকেই নিয়ে গেলাম চায়না বাজারে, যেহেতু তারা দুজনেই চায়না বাজারের লিটনের বৌ।
ওখানে স্থানীয় উৎসুক জনতার হস্তক্ষেপ শুরু হয়ে গেলো। বাধ্য হয়ে এখানে নিয়ে আসলাম। একই অবস্থা। মেয়েও যেমন, ছেলেও তেমন।
গোকুন্ডা ইউনিয়নের মিঠু মিয়া বলেন, আমাদের বাসস্ট্যান্ডে দুইটা মেয়ে চুলধরে মারামারি শুরু করেছে। আমরা তাদের ঝগড়া থামিয়ে নিয়ে আসি। এটাই আমাদের অপরাধ লিটনের পরিবারের কাছে।
প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হক বলেন, দুইজনে হুরাহুরি মারামারি। একে অপরকে বলে, তোকে তালাক দিয়েছে লিটন।
মতামত