শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

এআই নজরদারিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

এআই নজরদারিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও যানজটমুক্ত করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরায় নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা, নতুন ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণ এবং মহাসড়কটি ১০ লেনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মহাসড়কে ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে গত ১৮ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে এআইনির্ভর ক্যামেরা ও ‘অটো ফাইন’ ব্যবস্থা। যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির চলাচল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, ভুল লেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, বিপরীত পথে গাড়ি চালানো ও অবৈধ পার্কিংয়ের মতো অনিয়ম শনাক্ত করা হচ্ছে।

এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জরিমানা চালুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে।

মামলা হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে মামলা ও জরিমানার তথ্য পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যানজট ও দুর্ঘটনা কমিয়ে যাতায়াত নিরাপদ করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুধু সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এআই ক্যামেরা ও অটো ফাইন চালুর ফলে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে নতুন একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় চালকদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমাতে এটি ভূমিকা রাখবে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান জানান, শুরুতে ক্যামেরায় বেশি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়লেও নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে যারা বারবার আইন ভাঙবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হওয়ায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে।

এদিকে মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়াতে ১০ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগও এগিয়ে চলছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও কয়েকটি আন্ডারপাস নির্মাণের কথাও রয়েছে।

মহাসড়কের অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকা পদুয়াবাজারে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর নকশা ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যমান বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পদুয়াবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৩২ কিলোমিটার অংশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের নির্দেশনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে নকশার কাজ শেষ হয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।

সব মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি থেকে শুরু করে সড়ক সম্প্রসারণ ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণ—বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ভবিষ্যতের বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়ার উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআই নজরদারিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও যানজটমুক্ত করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরায় নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা, নতুন ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণ এবং মহাসড়কটি ১০ লেনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মহাসড়কে ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে গত ১৮ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে এআইনির্ভর ক্যামেরা ও ‘অটো ফাইন’ ব্যবস্থা। যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির চলাচল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, ভুল লেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, বিপরীত পথে গাড়ি চালানো ও অবৈধ পার্কিংয়ের মতো অনিয়ম শনাক্ত করা হচ্ছে।

এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জরিমানা চালুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে।

মামলা হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে মামলা ও জরিমানার তথ্য পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যানজট ও দুর্ঘটনা কমিয়ে যাতায়াত নিরাপদ করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুধু সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এআই ক্যামেরা ও অটো ফাইন চালুর ফলে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে নতুন একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় চালকদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমাতে এটি ভূমিকা রাখবে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান জানান, শুরুতে ক্যামেরায় বেশি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়লেও নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে যারা বারবার আইন ভাঙবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হওয়ায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে।

এদিকে মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়াতে ১০ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগও এগিয়ে চলছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও কয়েকটি আন্ডারপাস নির্মাণের কথাও রয়েছে।

মহাসড়কের অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকা পদুয়াবাজারে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর নকশা ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যমান বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পদুয়াবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৩২ কিলোমিটার অংশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের নির্দেশনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে নকশার কাজ শেষ হয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।

সব মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি থেকে শুরু করে সড়ক সম্প্রসারণ ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণ—বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ভবিষ্যতের বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়ার উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream