জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া হট্টগোল, বাধা সৃষ্টি এবং নিজ দলের সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শিকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’-এর ওপর জনমত যাচাইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি তাঁর এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।সংসদে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ ও অতীতের স্মৃতি স্মরণ:গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন: আগের দিনের (বুধবার) হট্টগোলের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, “গতকাল আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো ভিন্নমত (Dissendent voice) তোলা যায় বলে মনে হয় নাই।
বক্তব্য দেওয়ার পর যে আচরণ লক্ষ্য করেছি, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে মানায় না।” স্বপক্ষের এমপিদের গালাগাল ও অসদাচরণ: তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, বক্তব্য শেষে তাঁর আশপাশের সংসদ সদস্যরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন, যা ন্যূনতম সংসদীয় রীতি-নীতির পরিপন্থী।
একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে একাকী লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা ভোটের মাধ্যমে নতুন সংসদ পেলাম। সেখানেও যদি ন্যূনতম পরিবর্তন না ঘটে, তবে বিরোধীদল সেজে স্রেফ না-তে ভোট দেওয়ার জন্য সংসদে থাকার কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না।”
রুমিন ফারহানার ক্ষোভ ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে আশ্বস্ত করেন এবং বলেন, “গতকাল যা হওয়ার, হয়ে গেছে। এখন আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই।” স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সংসদীয় মর্যাদা রক্ষার্থে এখন থেকে সরকারি ও বিরোধী—উভয় দলের সদস্যরা বক্তব্য দেওয়াকালীন সময়ে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখবেন।
মতামত