ফরিদপুরের সদরপুরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুট ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোসা. ফেরদৌসি আক্তার নামে এক নারী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদরপুর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে সদরপুর উপজেলার শোলডুবী এলাকায় ফেরদৌসি আক্তারের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪/৫ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—ফারুক ফকির (৪০), সাদেক ফকির (৩৭), আরিফ ফকির (৩৫), আব্দুল কুদ্দুস ফকির (৫৫), সাজেদা বেগম (৪৫), হালিমন বেগম (৫৭) ও জেসমিন আক্তার (৪০)। তাঁদের সবার বাড়ি সদরপুর উপজেলার শোলডুবী এলাকায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফেরদৌসি আক্তার অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এরপর ঘরের দরজা-জানালা, শোকেজ, আলমারি, সোফা, খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বাদী দাবি করেন।
এ ছাড়া ঘরে থাকা গ্যাসের চুলা, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে আতশবাজি ফাটানো হয় বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেরদৌসি আক্তারের অভিযোগ, হামলার সময় আলমারির ড্রয়ার ভেঙে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের রুলি নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা। এ ছাড়া তাঁর গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ২৫ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি একটি গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাসের চুলা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে খুন ও জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফেরদৌসি আক্তার বলেন, অভিযুক্তদের ভয়ভীতির কারণে ঘটনার পরপরই তিনি থানায় গিয়ে মামলা করতে পারেননি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করেন। তিনি মামলাটির দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, ভুক্তভোগী নারী সদরপুর থানায় আসেননি। থানায় অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত