নীলফামারীর ডোমারে ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-তে মাটিকাটার কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২১ জন ভুক্তভোগী টাকা ফেরতের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডোমার সদর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে ইজিপিপির প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। টাকা না দিলে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া কিংবা কাজের সুযোগ বাতিলের ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী রেজিনা বেগম ও আঞ্জু বেগম জানান, কাজ পাওয়ার আশায় তারা ধার করে টাকা সংগ্রহ করে আব্দুল কাদেরকে দিয়েছিলেন। তবে টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো কাজ পাননি।
আরেক ভুক্তভোগী রবি রাম বলেন, ৪০ দিনের কাজের জন্য ২ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। টাকা দেওয়ার প্রায় দুই বছর হয়ে গেলেও কাজের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটি বর্তমানে নেই বলে জানতে পেরে টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় ইউনিয়ন পরিষদে এসেছেন তিনি।
এদিকে, কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ছোটখাটো কাজেও আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ার দাবি করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদের টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আগে যারা কাজ করছিলেন, তারাই যেন পরবর্তীতেও কাজের সুযোগ পান—এ উদ্দেশ্যেই তিনি টাকা নিয়েছিলেন।
ডোমার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সরকারি কর্মসূচিতে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে কোনো ধরনের অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। টাকা দেওয়া ও নেওয়া—দুইটিই আইনত অপরাধ। অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত