সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়ে দৈনিক ১১০ কোটি টাকা, মার্চেন্ট ছাড়াল ৩০ লাখ


আনোয়ার মুরাদ
আনোয়ার মুরাদ প্রকাশক
| ফটো কার্ড

বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়ে দৈনিক ১১০ কোটি টাকা, মার্চেন্ট ছাড়াল ৩০ লাখ
সংগৃহীত ছবি

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও বিস্তৃত করতে চালু করা ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই ব্যবস্থায় প্রতিদিন ১১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে। একই সময়ে বাংলা কিউআর গ্রহণকারী মার্চেন্টের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে।

‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশের ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বা প্রোপ্রাইটরি কিউআর কোডের পরিবর্তে একক বাংলা কিউআর ব্যবহারের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়।

এর ফলে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাপের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের একাধিক প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর কোড রাখার প্রয়োজনও কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। সর্বশেষ হিসাবে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেনের আর্থিক পরিমাণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। জুলাইয়ের শুরুতে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ কোটি টাকার লেনদেন হতো, বর্তমানে তা বেড়ে ১১০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় লেনদেনের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে।

মার্চেন্টের সংখ্যাতেও একই ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগে যেখানে প্রায় ১৬ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ‘এক দেশ এক কিউআর’ নীতি বাস্তবায়নের ফলে ব্যবসায়ী ও গ্রাহক—দুই পক্ষই সুবিধা পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের একাধিক কিউআর কোড ব্যবহারের ঝামেলা কমেছে। অন্যদিকে গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দের ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করেই বিভিন্ন দোকান ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে বিল পরিশোধ করতে পারছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি—উভয় ধরনের ব্যাংক এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ার ফলে দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সহজ, দ্রুত ও আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা তৈরি করা। বাংলা কিউআরের ব্যবহার যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তাতে দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়ে দৈনিক ১১০ কোটি টাকা, মার্চেন্ট ছাড়াল ৩০ লাখ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও বিস্তৃত করতে চালু করা ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই ব্যবস্থায় প্রতিদিন ১১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে। একই সময়ে বাংলা কিউআর গ্রহণকারী মার্চেন্টের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে।

‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশের ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বা প্রোপ্রাইটরি কিউআর কোডের পরিবর্তে একক বাংলা কিউআর ব্যবহারের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়।

এর ফলে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাপের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের একাধিক প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর কোড রাখার প্রয়োজনও কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। সর্বশেষ হিসাবে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেনের আর্থিক পরিমাণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। জুলাইয়ের শুরুতে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ কোটি টাকার লেনদেন হতো, বর্তমানে তা বেড়ে ১১০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় লেনদেনের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে।

মার্চেন্টের সংখ্যাতেও একই ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগে যেখানে প্রায় ১৬ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ‘এক দেশ এক কিউআর’ নীতি বাস্তবায়নের ফলে ব্যবসায়ী ও গ্রাহক—দুই পক্ষই সুবিধা পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের একাধিক কিউআর কোড ব্যবহারের ঝামেলা কমেছে। অন্যদিকে গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দের ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করেই বিভিন্ন দোকান ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে বিল পরিশোধ করতে পারছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি—উভয় ধরনের ব্যাংক এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ার ফলে দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সহজ, দ্রুত ও আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা তৈরি করা। বাংলা কিউআরের ব্যবহার যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তাতে দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream