মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের প্রভাবে মুরগি ডিম উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে



চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের প্রভাবে মুরগি ডিম উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে
চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের প্রভাবে মুরগি ডিম উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে

চুয়াডাঙ্গায় সদর উপজেলা হাতিকাটা গ্রামে তিন বিঘা জমির ওপর নির্মিত বিশাল এক জোয়ার্দ্দার পোল্ট্রি ফার্ম। এ ফার্মে ৩ হাজার লেয়ার মুরগি আছে। যেখানে প্রতিদিন ২ হাজার ডিম উৎপাদন হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ডিম উৎপাদন কমেছে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ পিস। এই সাথে বেড়েছে মুরগি ও ডিম উৎপাদনের দ্বিগুণ খরচের পরিমাণ। জোয়ার্দ্দার ফার্মে মাসে ৯০ শতাংশ ডিম উৎপাদন কমে মাসিক ডিম উৎপাদন হচ্ছে ৬০ হাজার। লোডশেডিংশের আগে এই ফার্মে প্রতিমাসে ডিম উৎপাদন হতো ৭৫ হাজারের বেশি।

সারাদেশে লোডশেডিংয়ের প্রভাবে পোল্ট্রি শিল্প খাতে বড় লোকশানের ধাক্কা খাচ্ছে ফার্ম মালিকেরা। দিনে ও রাতের বেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গাতে পোল্ট্রি ফার্মে ডিম উৎপাদনে ব্যহত হচ্ছে। দিনে ও রাতের অর্ধেক সময়জুড়ে বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ। যার ফলে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে চরম লোকশান গুনতে হবে বলে জানান ফার্ম মালিকরা।

হাতিকাটা জোয়ার্দ্দার ফার্মের মালিক পিন্টু জোয়ার্দ্দার  জানান, চুয়াডাঙ্গার ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদুৎ বিভাগে সারাক্ষণ বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। এতে পোল্ট্রি ফার্মের মালিকরা খুব বিপাকে আছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে ডিম ও মুরগি উৎপাদনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সময় মতো বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজেল চালিত জেনারেটর চালিয়ে মুরগির ডিম উৎপাদন করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিমাসে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে বাড়তি ১ লাখ টাকা খরচ গুনতে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাব কমে গেলে পোল্ট্রি খাতে লাভের সম্ভাবনা আছে । লোডশেডিং চলতে থাকলে মুরগি ফার্ম মালিকদের পথে বসার উপক্রম হয়ে যাবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সুত্রে জানাগেছে, জেলায় প্রান্তিক ব্রয়লার মুরগির খামার ৮ হাজার ২৯৫ টি, লেয়ার মুরগি খামার ৫ হাজার ৯২৮ টি, হাঁসের খামার ৩৯৮ টি। অপরদিকে কোম্পানি ফার্মের মধ্যে ব্রয়লার মুরগি খামারের সংখ্যা ৬২ টি, লেয়ার মুরগির খামার ২১ টি ও হাঁসের খামার ৬ টি।

জেলার এক পোল্ট্রি খামারি মিরাজ হোসেন বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংর কারণে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এক ঘন্টা পর পর বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। এতে ডিম উৎপাদন প্রতিদিন কমে আসছে। ফলে ফার্মে অনেক লোকশান গুনতে হচ্ছে।’

জেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার ডা: মোঃ সাহাবুদ্দিন  বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের পোল্ট্রি খামারীরা বিপাকে আছে। তাদের মুরগি ও ডিম উৎপাদনে খরচ বাড়ছে। এই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় মুরগি ডিম উৎপাদনে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে প্রাণীসম্পদ অফিস এ ব্যাপারে খামারিদের নিয়ম মতো পরামর্শ দিচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিভিশন কোং লিমিটেড(ওজোপাডিকো) সুত্রে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা মিলে বিদ্যুতের গ্রাহক আছে ৬০ হাজার। এখানে বিদ্যুদের চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট। যেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম। ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র আছে ৩ টি। অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, চুয়াডঙ্গা এরিয়ায় পল্লি বিদ্যুতের গ্রাহক আছে ৮৪ হাজার। তবে এই বিদ্যুৎতের চাহিদা রয়েছে ২০ মেগাওয়াট। যেখানে বিদ্যুত সরবরাহ করা হচ্ছে ১৩ মেগাওয়াটে ভিতরে। তবে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে ৭ মেগাওয়াট। কারণ ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত দিয়ে দুইটা জেলা কাভার করা লাগে।

এ বিষয়ে ওজোপাডিকো এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব  বলেন, ’জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। তবে এই লোডশেডিং কবে ঠিক হবে এখন বলতে পারছি না।’

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি দুই ইউনিটে বিদ্যুত সরবরাহ করে। যে কারণে ধারণ ক্ষমতার বিষয় চিন্তা করে আমরা বিদু্যুত সাপ্লাই করছি। চাহিদা তুলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের প্রভাবে মুরগি ডিম উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গায় সদর উপজেলা হাতিকাটা গ্রামে তিন বিঘা জমির ওপর নির্মিত বিশাল এক জোয়ার্দ্দার পোল্ট্রি ফার্ম। এ ফার্মে ৩ হাজার লেয়ার মুরগি আছে। যেখানে প্রতিদিন ২ হাজার ডিম উৎপাদন হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ডিম উৎপাদন কমেছে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ পিস। এই সাথে বেড়েছে মুরগি ও ডিম উৎপাদনের দ্বিগুণ খরচের পরিমাণ। জোয়ার্দ্দার ফার্মে মাসে ৯০ শতাংশ ডিম উৎপাদন কমে মাসিক ডিম উৎপাদন হচ্ছে ৬০ হাজার। লোডশেডিংশের আগে এই ফার্মে প্রতিমাসে ডিম উৎপাদন হতো ৭৫ হাজারের বেশি।

সারাদেশে লোডশেডিংয়ের প্রভাবে পোল্ট্রি শিল্প খাতে বড় লোকশানের ধাক্কা খাচ্ছে ফার্ম মালিকেরা। দিনে ও রাতের বেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গাতে পোল্ট্রি ফার্মে ডিম উৎপাদনে ব্যহত হচ্ছে। দিনে ও রাতের অর্ধেক সময়জুড়ে বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ। যার ফলে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে চরম লোকশান গুনতে হবে বলে জানান ফার্ম মালিকরা।

হাতিকাটা জোয়ার্দ্দার ফার্মের মালিক পিন্টু জোয়ার্দ্দার  জানান, চুয়াডাঙ্গার ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদুৎ বিভাগে সারাক্ষণ বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। এতে পোল্ট্রি ফার্মের মালিকরা খুব বিপাকে আছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে ডিম ও মুরগি উৎপাদনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সময় মতো বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজেল চালিত জেনারেটর চালিয়ে মুরগির ডিম উৎপাদন করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিমাসে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে বাড়তি ১ লাখ টাকা খরচ গুনতে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাব কমে গেলে পোল্ট্রি খাতে লাভের সম্ভাবনা আছে । লোডশেডিং চলতে থাকলে মুরগি ফার্ম মালিকদের পথে বসার উপক্রম হয়ে যাবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সুত্রে জানাগেছে, জেলায় প্রান্তিক ব্রয়লার মুরগির খামার ৮ হাজার ২৯৫ টি, লেয়ার মুরগি খামার ৫ হাজার ৯২৮ টি, হাঁসের খামার ৩৯৮ টি। অপরদিকে কোম্পানি ফার্মের মধ্যে ব্রয়লার মুরগি খামারের সংখ্যা ৬২ টি, লেয়ার মুরগির খামার ২১ টি ও হাঁসের খামার ৬ টি।

জেলার এক পোল্ট্রি খামারি মিরাজ হোসেন বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংর কারণে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এক ঘন্টা পর পর বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। এতে ডিম উৎপাদন প্রতিদিন কমে আসছে। ফলে ফার্মে অনেক লোকশান গুনতে হচ্ছে।’

জেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার ডা: মোঃ সাহাবুদ্দিন  বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের পোল্ট্রি খামারীরা বিপাকে আছে। তাদের মুরগি ও ডিম উৎপাদনে খরচ বাড়ছে। এই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় মুরগি ডিম উৎপাদনে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে প্রাণীসম্পদ অফিস এ ব্যাপারে খামারিদের নিয়ম মতো পরামর্শ দিচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিভিশন কোং লিমিটেড(ওজোপাডিকো) সুত্রে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা মিলে বিদ্যুতের গ্রাহক আছে ৬০ হাজার। এখানে বিদ্যুদের চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট। যেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম। ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র আছে ৩ টি। অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, চুয়াডঙ্গা এরিয়ায় পল্লি বিদ্যুতের গ্রাহক আছে ৮৪ হাজার। তবে এই বিদ্যুৎতের চাহিদা রয়েছে ২০ মেগাওয়াট। যেখানে বিদ্যুত সরবরাহ করা হচ্ছে ১৩ মেগাওয়াটে ভিতরে। তবে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে ৭ মেগাওয়াট। কারণ ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত দিয়ে দুইটা জেলা কাভার করা লাগে।

এ বিষয়ে ওজোপাডিকো এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব  বলেন, ’জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। তবে এই লোডশেডিং কবে ঠিক হবে এখন বলতে পারছি না।’

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি দুই ইউনিটে বিদ্যুত সরবরাহ করে। যে কারণে ধারণ ক্ষমতার বিষয় চিন্তা করে আমরা বিদু্যুত সাপ্লাই করছি। চাহিদা তুলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream