রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

১২ বছর ধরে চরম ঝুঁকিতে নীলফামারীর কেতকীবাড়ীর ব্রিজ: দুর্ভোগে ৩ গ্রামের মানুষ



১২ বছর ধরে চরম ঝুঁকিতে নীলফামারীর কেতকীবাড়ীর ব্রিজ: দুর্ভোগে ৩ গ্রামের মানুষ
১২ বছর ধরে চরম ঝুঁকিতে নীলফামারীর কেতকীবাড়ীর ব্রিজ: দুর্ভোগে ৩ গ্রামের মানুষ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় একটি ব্রিজ দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটির দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে বাধ্য হয়ে গর্তের ওপর বাঁশের জাকলা তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় তিন গ্রামের মানুষ, শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিনের পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেতকীবাড়ী দালানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠানপাড়া যাওয়ার পথে ব্রিজটির অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সেখানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে গর্তের ওপর বাঁশের জাকলা তৈরি করে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।

এই অস্থায়ী পারাপারের পথ দিয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল নিয়েও চলাচল করতে দেখা যায়। অনেকেই ব্রিজের কাছে এসে মোটরসাইকেল নামিয়ে ঠেলে বাঁশের জাকলার ওপর দিয়ে পার হচ্ছেন। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির দুই পাশের মাটি ভেঙে পড়ে থাকলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়রাই বাঁশের জাকলা তৈরি করেছেন। কিন্তু এটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তারা আরও জানান, কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে বিকল্প পথে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে জরুরি সময়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ব্রিজটির সংস্কার বা স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হোক।

কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান বলেন, ঠাটারীপাড়া ও পাঠানপাড়া এলাকার মাঝখানে অবস্থিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার আগ থেকেই ব্রিজটির এই অবস্থা। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্রিজটি দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় হাজারো মানুষ চলাচল করেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান বলেন, ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। সেখানে বক্স কালভার্ট বা ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তবে মাটি ও স্থাপনার পরিস্থিতি বিবেচনায় শুধু বক্স ব্রিজ দিলে সেটি টেকসই নাও হতে পারে। এজন্য পাইলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে এলাকায় আরও বিশেষভাবে পরিদর্শন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ব্রিজটির কারণে প্রতিদিনই আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে একটি নিরাপদ ও টেকসই পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


১২ বছর ধরে চরম ঝুঁকিতে নীলফামারীর কেতকীবাড়ীর ব্রিজ: দুর্ভোগে ৩ গ্রামের মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় একটি ব্রিজ দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটির দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে বাধ্য হয়ে গর্তের ওপর বাঁশের জাকলা তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় তিন গ্রামের মানুষ, শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিনের পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেতকীবাড়ী দালানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠানপাড়া যাওয়ার পথে ব্রিজটির অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সেখানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে গর্তের ওপর বাঁশের জাকলা তৈরি করে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।

এই অস্থায়ী পারাপারের পথ দিয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল নিয়েও চলাচল করতে দেখা যায়। অনেকেই ব্রিজের কাছে এসে মোটরসাইকেল নামিয়ে ঠেলে বাঁশের জাকলার ওপর দিয়ে পার হচ্ছেন। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির দুই পাশের মাটি ভেঙে পড়ে থাকলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়রাই বাঁশের জাকলা তৈরি করেছেন। কিন্তু এটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তারা আরও জানান, কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে বিকল্প পথে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে জরুরি সময়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ব্রিজটির সংস্কার বা স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হোক।

কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান বলেন, ঠাটারীপাড়া ও পাঠানপাড়া এলাকার মাঝখানে অবস্থিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার আগ থেকেই ব্রিজটির এই অবস্থা। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্রিজটি দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় হাজারো মানুষ চলাচল করেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান বলেন, ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। সেখানে বক্স কালভার্ট বা ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তবে মাটি ও স্থাপনার পরিস্থিতি বিবেচনায় শুধু বক্স ব্রিজ দিলে সেটি টেকসই নাও হতে পারে। এজন্য পাইলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে এলাকায় আরও বিশেষভাবে পরিদর্শন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ব্রিজটির কারণে প্রতিদিনই আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে একটি নিরাপদ ও টেকসই পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream