রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সরাইলে কাতার প্রবাসীর ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ



সরাইলে কাতার প্রবাসীর ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কাতার প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী।

সোমবার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় সরাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন  জাহাঙ্গীর আলম। তিনি উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন , দীর্ঘদিন কাতারে ব্যবসা করার সুবাদে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পানিশ্বর গ্রামের প্রয়াত  কালা মিয়ার ছেলে হানিফ আহমেদ সবুজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৮ সালে হানিফ আহমেদ সবুজ তাঁর কাতারের বাসায় ওঠেন এবং দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে হানিফ আহমেদ সবুজ বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেন। মেঘনা নদীতে স্টিলের নৌকা ব্যবসা, ট্রাভেলস, চাউলের ব্যবসা ও বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের কথা বলে সর্বমোট প্রায় ৫ কোটি টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার এক মাসের জন্য বলে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও কথিত বিনিয়োগকৃত ব্যবসা থেকে কোনো লভ্যাংশ পাননি। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাঁকে কয়েকটি ব্ল্যাংক চেক দিতে হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই চেক ব্যবহার করে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরবর্তীতে দেশে ফিরে ব্যবসায়িক বিষয়গুলো বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি ঢাকার মিরপুরে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা সব চেকবই একসঙ্গে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু সরাইল সদরের বাসায় আসার পর চেকবইগুলো হারিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

পরে ব্যাংক থেকে হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) সংগ্রহ করে তিনি জানতে পারেন, জিডিতে উল্লেখ করা হারিয়ে যাওয়া চেকবইয়ের চেকের পাতা ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর হারিয়ে যাওয়া চেকটি হানিফ আহমেদ সবুজের কাছে রয়েছে বলে তাঁর দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জীবনের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও উপার্জনের অর্থ হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


সরাইলে কাতার প্রবাসীর ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কাতার প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী।

সোমবার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় সরাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন  জাহাঙ্গীর আলম। তিনি উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন , দীর্ঘদিন কাতারে ব্যবসা করার সুবাদে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পানিশ্বর গ্রামের প্রয়াত  কালা মিয়ার ছেলে হানিফ আহমেদ সবুজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৮ সালে হানিফ আহমেদ সবুজ তাঁর কাতারের বাসায় ওঠেন এবং দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে হানিফ আহমেদ সবুজ বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেন। মেঘনা নদীতে স্টিলের নৌকা ব্যবসা, ট্রাভেলস, চাউলের ব্যবসা ও বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের কথা বলে সর্বমোট প্রায় ৫ কোটি টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার এক মাসের জন্য বলে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও কথিত বিনিয়োগকৃত ব্যবসা থেকে কোনো লভ্যাংশ পাননি। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাঁকে কয়েকটি ব্ল্যাংক চেক দিতে হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই চেক ব্যবহার করে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরবর্তীতে দেশে ফিরে ব্যবসায়িক বিষয়গুলো বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি ঢাকার মিরপুরে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা সব চেকবই একসঙ্গে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু সরাইল সদরের বাসায় আসার পর চেকবইগুলো হারিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

পরে ব্যাংক থেকে হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) সংগ্রহ করে তিনি জানতে পারেন, জিডিতে উল্লেখ করা হারিয়ে যাওয়া চেকবইয়ের চেকের পাতা ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর হারিয়ে যাওয়া চেকটি হানিফ আহমেদ সবুজের কাছে রয়েছে বলে তাঁর দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জীবনের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও উপার্জনের অর্থ হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream