শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবেন কেন? ইসলামে ধৈর্যের শিক্ষা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবেন কেন? ইসলামে ধৈর্যের শিক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

জীবনে কখনো আর্থিক সংকট, কখনো প্রিয়জন হারানোর কষ্ট, আবার কখনো অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মানুষকে ভেঙে দেয়। কঠিন সময়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু ইসলাম শেখায়, বিপদ জীবনের একটি পরীক্ষা এবং মুমিনের জন্য ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

মানুষের জীবন সব সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী চলে না। কখনো দীর্ঘদিনের চেষ্টা সফল হয় না, কখনো কাছের মানুষ কষ্ট দেয়, আবার কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যার কোনো সহজ সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব সময়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ইসলাম মানুষকে হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ না করে ধৈর্য ধারণ, দোয়া এবং সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।’ (সুরা আশ-শারহ, আয়াত ৫–৬)।

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে আশার বার্তা দিয়েছেন। জীবনের কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিপদ এলেই কোনো চেষ্টা ছাড়াই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। বরং ধৈর্যের পাশাপাশি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়াও জরুরি।

বিপদের সময় ধৈর্যের গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৩)।

এখানে ধৈর্য বলতে শুধু চুপচাপ কষ্ট সহ্য করাকে বোঝায় না। বরং কঠিন পরিস্থিতিতেও অন্যায় থেকে বিরত থাকা, নিজের দায়িত্ব পালন করা, সঠিক পথে থাকার চেষ্টা করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই ধৈর্যের পরিচয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের বিষয়টি আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। এমনটি মুমিন ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে হয় না। সে সুখ পেলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আর তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর বিপদে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে, সেটিও তার জন্য কল্যাণকর হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)।

বিপদের সময় একজন মুসলমান কী করতে পারেন?

প্রথমত, নিয়মিত নামাজ আদায় এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা। দ্বিতীয়ত, সমস্যার সমাধানে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। তৃতীয়ত, হতাশ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়া। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেওয়া এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিজের জীবনে পাওয়া নেয়ামতগুলোর কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞ থাকার চেষ্টা করা উচিত।

বিপদের সময় পড়ার একটি সুন্দর দোয়া রয়েছে— حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।

অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৭৩)।

জীবনে বিপদ আসা মানেই আল্লাহ কাউকে অপছন্দ করেন, এমন নয়। দুনিয়ার জীবন পরীক্ষা ও নানা পরিস্থিতির সমষ্টি। তাই কঠিন সময়ে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ, দোয়া, চেষ্টা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবেন কেন? ইসলামে ধৈর্যের শিক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জীবনে কখনো আর্থিক সংকট, কখনো প্রিয়জন হারানোর কষ্ট, আবার কখনো অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মানুষকে ভেঙে দেয়। কঠিন সময়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু ইসলাম শেখায়, বিপদ জীবনের একটি পরীক্ষা এবং মুমিনের জন্য ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

মানুষের জীবন সব সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী চলে না। কখনো দীর্ঘদিনের চেষ্টা সফল হয় না, কখনো কাছের মানুষ কষ্ট দেয়, আবার কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যার কোনো সহজ সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব সময়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ইসলাম মানুষকে হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ না করে ধৈর্য ধারণ, দোয়া এবং সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।’ (সুরা আশ-শারহ, আয়াত ৫–৬)।

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে আশার বার্তা দিয়েছেন। জীবনের কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিপদ এলেই কোনো চেষ্টা ছাড়াই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। বরং ধৈর্যের পাশাপাশি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়াও জরুরি।

বিপদের সময় ধৈর্যের গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৩)।

এখানে ধৈর্য বলতে শুধু চুপচাপ কষ্ট সহ্য করাকে বোঝায় না। বরং কঠিন পরিস্থিতিতেও অন্যায় থেকে বিরত থাকা, নিজের দায়িত্ব পালন করা, সঠিক পথে থাকার চেষ্টা করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই ধৈর্যের পরিচয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের বিষয়টি আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। এমনটি মুমিন ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে হয় না। সে সুখ পেলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আর তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর বিপদে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে, সেটিও তার জন্য কল্যাণকর হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)।

বিপদের সময় একজন মুসলমান কী করতে পারেন?

প্রথমত, নিয়মিত নামাজ আদায় এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা। দ্বিতীয়ত, সমস্যার সমাধানে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। তৃতীয়ত, হতাশ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়া। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেওয়া এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিজের জীবনে পাওয়া নেয়ামতগুলোর কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞ থাকার চেষ্টা করা উচিত।

বিপদের সময় পড়ার একটি সুন্দর দোয়া রয়েছে— حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।

অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৭৩)।

জীবনে বিপদ আসা মানেই আল্লাহ কাউকে অপছন্দ করেন, এমন নয়। দুনিয়ার জীবন পরীক্ষা ও নানা পরিস্থিতির সমষ্টি। তাই কঠিন সময়ে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ, দোয়া, চেষ্টা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream