মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

চট্টগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চট্টগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে উম্মে হাবিবা (২১) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাতে পাঁচলাইশ থানাধীন কালারপুল এলাকার বাসা থেকে উম্মে হাবিবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী মাহমুদুল হাসানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের ভাই।

তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক ও বিভিন্ন অজুহাতে ওই গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. ইদ্রিস রানা থানায় একটি এজহার দায়েরের পর অভিযুক্ত স্বামী ও তার বোনকে আটক করা হয়েছে। নিহত উম্মে হাবিবা কক্সবাজার জেলার পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল কবিরের মেয়ে।   

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বাঁশখালীর বানীগ্রামের সাধনপুর এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে উম্মে হাবিবার বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী তার বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য উম্মে হাবিবার সব স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলে  অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির টাকা দেওয়ার জন্য উম্মে হাবিবাকে নিয়মিত চাপ দিতেন তার স্বামী। এ ছাড়া কোরবানির ঈদে বাবার বাড়ি থেকে ছাগল ও পর্যাপ্ত কাপড়চোপড় দেওয়া হয়নি এমন অজুহাতেও তাকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হতো। একাধিকবার মারধরের শিকার হলেও সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি বিষয়গুলো সহ্য করে আসছিলেন।  

নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে একপর্যায়ে পারিবারিক বৈঠকের মাধ্যমে উম্মে হাবিবাকে আবার স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। মৃত্যুর সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গর্ভাবস্থায়ও স্বামী তার ভরণপোষণ দিতেন না। বরং বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির লোকজন উম্মে হাবিবাকে তার পৈতৃক বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী থেকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পেছনে কালারপুল এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আসেন। পরদিন ২ নভেম্বর রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তার বাবাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

নিহতের ভাই ইদ্রিস রানা বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উম্মে হাবিবাকে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় তার শরীর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দাবি, স্বামী মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্যাতন করে তার বোন ও অনাগত সন্তানকে হত্যা করেছেন। ঘটনাটি আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মেডিকেলে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও তার বোনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/এএম  

বিষয় : মৃত্যু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


চট্টগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে উম্মে হাবিবা (২১) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাতে পাঁচলাইশ থানাধীন কালারপুল এলাকার বাসা থেকে উম্মে হাবিবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী মাহমুদুল হাসানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের ভাই।

তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক ও বিভিন্ন অজুহাতে ওই গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. ইদ্রিস রানা থানায় একটি এজহার দায়েরের পর অভিযুক্ত স্বামী ও তার বোনকে আটক করা হয়েছে। নিহত উম্মে হাবিবা কক্সবাজার জেলার পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল কবিরের মেয়ে।   

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বাঁশখালীর বানীগ্রামের সাধনপুর এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে উম্মে হাবিবার বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী তার বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য উম্মে হাবিবার সব স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলে  অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির টাকা দেওয়ার জন্য উম্মে হাবিবাকে নিয়মিত চাপ দিতেন তার স্বামী। এ ছাড়া কোরবানির ঈদে বাবার বাড়ি থেকে ছাগল ও পর্যাপ্ত কাপড়চোপড় দেওয়া হয়নি এমন অজুহাতেও তাকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হতো। একাধিকবার মারধরের শিকার হলেও সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি বিষয়গুলো সহ্য করে আসছিলেন।  

নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে একপর্যায়ে পারিবারিক বৈঠকের মাধ্যমে উম্মে হাবিবাকে আবার স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। মৃত্যুর সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গর্ভাবস্থায়ও স্বামী তার ভরণপোষণ দিতেন না। বরং বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির লোকজন উম্মে হাবিবাকে তার পৈতৃক বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী থেকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পেছনে কালারপুল এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আসেন। পরদিন ২ নভেম্বর রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তার বাবাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

নিহতের ভাই ইদ্রিস রানা বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উম্মে হাবিবাকে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় তার শরীর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দাবি, স্বামী মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্যাতন করে তার বোন ও অনাগত সন্তানকে হত্যা করেছেন। ঘটনাটি আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মেডিকেলে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও তার বোনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/এএম  


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream