ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাঁ রোডে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রায় ২০টি ম্যানহোল ঢাকনাবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে শিশু, বৃদ্ধসহ পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত এসব ম্যানহোলে ঢাকনা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের বিপরীত পাশের ঈদগাঁ রোডটি বসুরহাট সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মিনি ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচল করে। স্থানীয়দের দাবি, এ এলাকায় প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার মানুষের বসবাস। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটিতে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ময়লা পানি জমে থাকত এবং পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ত। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে আইয়ুব আলী নামে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ হয়। তবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা ম্যানহোলগুলোর ঢাকনা না থাকায় নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়ির সামনেই এসব ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল থাকায় চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সড়কে পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট না থাকায় রাতে চলাচলে ভোগান্তি হয়। অন্ধকারে ম্যানহোলের গর্ত দেখতে না পেয়ে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি রাতে এক ব্যক্তি ম্যানহোলে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ অবস্থায় জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ম্যানহোলগুলোর ঢাকনা স্থাপন, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা পৌরসভার প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, যেসব স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপন বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত স্থাপনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলগুলোতে কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগ বা দুর্ঘটনা না ঘটে।
এদিকে নির্ধারিত সময়ে সড়কের কাজ শেষ না করা, সড়কের মধ্যে ব্যারিকেড দেওয়া, বালু ফেলে রাখা এবং অসমাপ্ত কাজের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চলাচলকারীরা। দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।
মতামত