গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সব মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ খাতে জনবল, টিকা ও ওষুধের সংকট রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে হাসপাতালটি ১৯ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেটি ৫০ শয্যায় রূপান্তর করেন। এরপর আর হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা বাড়ানো বা উন্নয়ন করা হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধের প্রাপ্যতা, চিকিৎসক সংকটসহ হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি।
অব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া দেরিতে হাসপাতালে আসায় কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আড়াই হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০০ চিকিৎসক কাজে যোগ দিয়েছেন। চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবলের সংকট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টিকা, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বাজেট পাওয়া যায়নি। বর্তমান সরকার যে বাজেট পেয়েছে, তা দিয়ে দুর্নীতিমুক্তভাবে আগের সরকারের তুলনায় কম খরচে কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মতামত