মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ ছোট বোন শেখ রেহানা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।’ দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’ তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ তার বক্তব্য, বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মনে করেন। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, তারেককে ফিরিয়ে আনল সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তার মতে, কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ সময় তারেক রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি তো বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ?’ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর-কষাকষি বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে কতটা ব্যথিত করছে, তা বোঝাতে তিনি বলেন, ‘আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে ঝুঁকিতে না পড়ে, সেই আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দেশে ফেরার জন্য সরকার ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দিলে কীভাবে ফিরবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ভারত সরকারের কাছে তাঁকে ফেরত দেওয়ার কথা বলছে। তার বক্তব্য, ‘যখন ফেরত দেওয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব।’ দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে অন্য কোনোভাবে প্রবেশ করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বর্তমান পরিস্থিতিকে অনুকূল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারেরও সমালোচনা করেন তিনি এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বলে মন্তব্য করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশের মানুষের কাছে যাব। কারণ, মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে যদি আমার জীবনও যায় যাবে। কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে আসার ইচ্ছা তাঁর ছিল না এবং কী ঘটতে যাচ্ছে, তা-ও তিনি আগে জানতেন না। তার ভাষ্য, একটি পরিস্থিতিতে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। এমনকি হেলিকপ্টারে করে সীমান্ত পার হওয়ার পর তাকে জানানো হয় যে তারা ভারতে যাচ্ছেন। এর আগে পর্যন্ত তিনি মনে করেছিলেন, তাঁকে তাঁর গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাব।’ তিনি বলেন, ‘আমি যাব কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি এখানে (ভারত) চলে এসেছি।’ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, ‘আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেওয়া হয়েছে।’ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ‘যত জঙ্গি, সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশের সদস্যদের ওপর সহিংসতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তার নিজস্ব ব্যাখ্যা ও দাবি তুলে ধরেছেন। ডিসেম্বরের আগেই দেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ফিরবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বর মাসটি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসটা আমি বেছে নিয়েছি, আসলে এটা আমাদের বিজয়ের মাস।’ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে, অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। এগুলি চলছে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে।’ তিনি বলেন, ‘আগে না, ডিসেম্বর মাসেই যাবো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি, কোনো চালাকির কাছে নয়: পলক

‘আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি। কোনো চালাকির কাছে নয়’—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এদিন আট নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন এক শিক্ষার্থী। ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন সাক্ষী। নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ৫ আগস্ট দুপুর ২টার পর শেখ হাসিনার পতনের খবর পান তারা। এরপর বন্ধুরা মিলে তারা রাজধানীর উত্তরায় বিজয় মিছিলে অংশ নেন। ওই দিন তার চোখের সামনে কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেন তিনি। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জবানবন্দিতে একটি সংশোধন চায় প্রসিকিউশন। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এ নিয়ে আপত্তি জানান জুনাইদ আহমেদ পলক।  ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এ মুহূর্তে কোনো সংশোধনী না নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। খুব সুন্দরভাবে সাক্ষ্য সম্পন্ন করেছে প্রসিকিউশন। মাননীয় আদালতও মূল্যবান সময় দিয়েছেন। অতএব আমার অনুরোধ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আর কোনো সংশোধনী যেন না নেওয়া হয়।’ এ পর্যায়ে পলক বলেন, ‘আমি শুধু ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি। কোনো চালাকির কাছে নয়।’ পরে পলকের পক্ষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদ ও আবদুল্লাহ আল নোমান। এ মামলায় জুনায়েদ আহমেদ পলক ছাড়াও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে আসামি করা হয়েছে। পলাতক থাকায় তার পক্ষে আইনি লড়াই করছেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মনজুর আলম।

আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি, কোনো চালাকির কাছে নয়: পলক

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন সম্পন্ন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। এদিন প্রথমে আইন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।  তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ মারার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়।  এ মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও-ভিডিওতে এসবের প্রমাণ উঠে এসেছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউশনের এসব কথার জবাব দেন ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী এম হাসান ইমাম। তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় শুট অ্যাট সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার তিনজন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসেবলিটিতে একজনকেই আমি দায়ী করি। অতএব আমার মক্কেলরা কাউকে মারেননি বা মারার নির্দেশও দেননি। এরপর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন ইশরাত জাহান।  এই আইনজীবীর দাবি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেল তথা সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের নাম আসেনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্যরা। এছাড়া অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলছিল। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, বারবার নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী আনা হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণেও এমন কিছু দেখাতে পারেনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।  নিজের চার মক্কেলের খালাস চেয়ে ইশরাত বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আন্দোলন ঘিরে কিছু কথা উচ্চারণ করেছেন আমার মক্কেলরা। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত কোনো ভিডিওতেই তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল না। এককথায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি প্রসিকিউশন। এজন্য আমি চারজনেরই খালাস প্রার্থনা করছি। আসামিপক্ষের যুক্তি শেষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের ব্যাখ্যা দিয়ে এ মামলার আসামিদের অপরাধ তুলে ধরেন। আন্দোলন দমনে নেমে একজন লোক মারা গেলেও আসামিরা অপরাধী বলে গণ্য হবেন বলে আইনি যুক্তি দেখান তিনি।  এর আগে, ১২ আগস্ট সাত আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় সব আসামির অপরাধ গুরুতর বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।  তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চান তারা। গত ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, প্রশ্নে যা বললেন রুমিন ফারহানা

সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে উপস্থিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। খালেদ মুহিউদ্দীন রুমিনের কাছে জানতে চান তিনি গুপ্ত আওয়ামী লীগ কিনা।  উত্তরে তিনি বলেন, না আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।   খালেদ: আমি এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নটা করব যখন দর্শকরাও আসলে কাছাকাছি বিষয়ে কথা বলছেন- যে গত এক বছর ধরে যারা আপনার কথা পছন্দ করছেন; তাদের বড় একটি অংশ আবার এ অভিযোগও তুলছেন যে আপনি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ ধরে রাখার কাজ করছেন। মানে আপনি আসলে একজন গুপ্ত আওয়ামী লীগার। আপনার মনের মধ্যে আওয়ামী লীগটাই আছে- অনেকে এরকম বলছেন।  বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন।   রুমিন: আমি যদি তাদের সব অভিযোগ সত্য বলিয়া ধরিয়া লই যে আমি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখেছি। আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ বাঁচিয়ে রাখেছি। তাহলে সম্ভবত আমি একটা লাইফ সেভিং মেশিনের মতন- বুঝছেন? যখন বিএনপি আইসিইউতে ঢুকে- আমি বিএনপিকে বাঁচাই; যখন আওয়ামী লীগ আইসিইউতে ঢুকে আমি আওয়ামী লীগকে বাঁচাই।   খালেদ: হইলেন লাইফ সেভিং মেশিন- আপনি তো সব সময় বিএনপি করতেন সেজন্য আপনি বিএনপিকে বাঁচানো চেষ্টা করেছেন।  আপনি তো আওয়ামী লীগ করেন নাই।  নাকি গোপনে আওয়ামী লীগ করেন। রুমিন: না আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।  কিন্তু আমি আপনাকে কিন্তু এ উত্তরটা দিয়েছি যে যখন আপনার প্রতিপক্ষের হাত থেকে তলোয়ার পড়বে তখন তাকে আঘাত করা সবচেয়ে বড় কাপুরুষের কাজ।  আমি আপনাকে তখনই বীর বলব যখন আপনার প্রতিপক্ষ সে তার সর্বোচ্চ শক্তির অবস্থানে থাকা অবস্থায় আঘাত করবেন।  আওয়ামী লীগ যখন তার সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থায় ছিল তখন আজকে যারা কমেন্ট করছেন- তাদের নিয়ে কিছু বলা কি ঠিক হবে? খালেদ: আপনার বক্তব্যগুলি আওয়ামী লীগের পক্ষে এখন যাচ্ছে- কারণ হচ্ছে যে আপনি আসলে যার প্রতি অন্যায় হচ্ছে তার পক্ষেই কথা বলছেন ব্যাপারটা কি এরকম রুমিন: সিম্পল একদম একদম ভেরি সিম্পল। খালেদ: কিন্তু একটা প্রশ্ন তো আসেই যে আওয়ামী লীগ এত বছর ধরে যদি এত অন্যায় করতে পারল তার বিরুদ্ধে আসলে আমরা ন্যায় কেন করব- মানে অনেকেই এ প্রশ্ন আমাকেও করে।  মানে অন্যায়কে তো অন্যায় দিয়ে প্রতিবাদ করা দরকার।  রুমিন: ঘৃণার পালটা ঘৃণা যখন আপনি শুরু করবেন- তখন ঘৃণার চাষের বাইরে আপনি কিছু দেখবেন না। মানে অ্যান আই ফর অ্যান আই মেইক্স দ্য হোল ওয়ার্ল্ড ব্লাইন্ড। আমি সেটা করব না তো। আপনি যে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেটার- আপনি আওয়ামী লীগকে সরাইছেন কেন- কারণ আওয়ামী লীগ খারাপ ছিল। আপনি যদি সেটাই আবার করেন তাহলে আওয়ামী লীগের দোষ কী ছিল। আপনি যদি সেই মিথ্যা মামলা দেন, আপনি যদি সেই গায়েব মামলা দেন, আপনি যদি শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এই বয়সে খুনের মামলা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন; বিরোধী দলের নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) হেনস্থা করা হয়েছিল- তখন সেটা যদি আমাদের কষ্ট লেগে থাকে তাহলে আজকে যখন আবার কাউকে না কাউকে রাজনীতি করার কারণে এভাবে হেনস্থা করছে কেউ না কেউ।  তখন তো আমার সেটার প্রতিবাদ করতে হবে- না হলে তো আমার আগে প্রতিবাদটা লেজিটিমেট হয় না। তার মানে কী- যখন আমি ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদ বেছে নেই; তার মানে আমি আসলে ন্যায়টাকে সমর্থন করি না; আমি ব্যক্তির চর্চাটা করতে চাই না খালেদ ভাই।

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, প্রশ্নে যা বললেন রুমিন ফারহানা

হাসিনা ফেরার ঘোষণা দিলেও বিচারের মুখে আওয়ামী লীগ

ভারত যাওয়ার দুই বছর পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশে একই সময়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার কার্যক্রমও তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।গত ৫ আগস্ট, গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তির দিন দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার আইনি সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাহী আদেশে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, রোম স্ট্যাটিউট ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন বিবেচনায় রেখে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে দলটিকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিএনপিসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দল।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর সম্ভব নয় এবং দলটি আর রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে পারবে না।তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আদালতের মাধ্যমে বিচার ও নিষিদ্ধ করার নজির বাংলাদেশে নেই। অতীতে নির্বাহী আদেশে বিভিন্ন সংগঠন নিষিদ্ধ করা হলেও আদালতের রায়ে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়নি।জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ হয়েছিল। তার মতে, তদন্তে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আওয়ামী লীগের বিচারের বিরুদ্ধে নৈতিকভাবে অবস্থান নেওয়া কঠিন হবে।অন্যদিকে সাবেক বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলের বিচারসংক্রান্ত আইনটি পরে সংশোধন করে যুক্ত করা হয়েছে। তবে দলগতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ উপস্থাপন করা সহজ হবে না।তিনি আরও বলেন, নীতিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে তিনি নন। তার মতে, ব্যক্তির অপরাধের বিচার হতে পারে, কিন্তু একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চা ও সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার চ্যালেঞ্জরাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা নীতিগতভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে।বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। পরে বিএনপি সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিধান আরও স্পষ্ট করে।

হাসিনা ফেরার ঘোষণা দিলেও বিচারের মুখে আওয়ামী লীগ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream