মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেছেন, "আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করেছে। বর্তমানে আরেকটি দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই ধরনের ব্যবসা করছে। আমরা কোনো চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না; বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।"
আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজস্ব তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, "আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, সংখ্যালঘুদের জান, মাল ও ইজ্জত রক্ষা করা আমাদের সকলের পবিত্র আমানত। এই আমানত রক্ষা করতে হবে।" হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, বিএনপি সর্বদা তাদের পাশে আছে এবং সবাইকে মিলেমিশে পথ চলতে হবে।
স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান আমরা দেব এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনার ওপর ভিত্তি করে আমাদের চলতে হবে।"
ধর্মমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসী কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, "যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পরপর দুই বা তিনবার খারাপ হবে, তাদের এমপিও বন্ধের জন্য সুপারিশ করা হবে।"
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত কল্যাণ তহবিল হতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ৫ লক্ষ টাকা এবং সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ৫ লক্ষ টাকা—সর্বমোট ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়া মুরাদনগর উপজেলায় ১ লক্ষের অধিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সফল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এর আগে দিনের শুরুতে ধর্মমন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয় 'প্রতিভা স্কুল'-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে কেক কাটেন এবং বিদ্যালয়টির কল্যাণে ১ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত