প্রচলিত ফসলের বৃত্ত ভেঙে নতুন কিছু করার অদম্য কৌতূহল আর স্বপ্নবাজ মনই মানুষকে নিয়ে যায় সাফল্যের শিখরে। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষক খলিলুর রহমান এবার সেটাই প্রমাণ করলেন। অচেনা বিদেশি সবজি ‘স্কোয়াশ’ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য এখন পুরো অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে তাহেরপুর গ্রামের মাঠে দেখা মিলল চোখ জুড়ানো এক দৃশ্যের। সারি সারি সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর চমৎকার গড়নের সতেজ স্কোয়াশ। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোর চেনা জগতের বাইরে একটু ভিন্ন কিছু করার জেদ থেকেই কৃষি বিভাগের পরামর্শে কাজলী জাতের এই বীজ রোপণ করেছিলেন তিনি। খরচ কম, অথচ ফলন ও বাজারে চাহিদা এতো বেশি যে, প্রথমবারই মিলছে বাম্পার লাভ।
কৃষক খলিলুর রহমান উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, “নতুন কিছু করার ঝোঁক থেকেই এক বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছি। ফলন যা পেয়েছি, তা সত্যিই আশাতীত। খরচ বাদে বেশ ভালো লাভ হওয়ায় আগামীতে এর পরিসর আরও বাড়াবো।”
মাঠ পরিদর্শন করে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, খলিলুর রহমানের এ প্রচেষ্টা স্থানীয় কৃষিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুনাঈদ হাবিব বলেন, “স্কোয়াশ আমাদের দেশে তুলনামূলক নতুন একটি ফসল। খলিলুর রহমানের মতো কৃষকরা এগিয়ে এলেই কৃষিতে বৈচিত্র্য আসে। আমরা তাঁর জমি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং এর চাহিদা সন্তোষজনক হওয়ায় অন্য কৃষকদেরও এ চাষে সার্বিক কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
মাত্র কয়েক শতাংশ জমিটার শখের চাষ আজ মণিরামপুরের কৃষিতে এক অনন্য সম্ভাবনার প্রতীক। খলিলুর রহমানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, একটু ভিন্ন ভাবনা আর সঠিক পরিচর্যাই বদলে দিতে পারে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।
মতামত