পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নে নাপিতখালী সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭৯ দশমিক ৪২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদের বড় একটি অংশ পার হলেও সেতুর মূল নির্মাণকাজ দৃশ্যমানভাবে এগোয়নি। এদিকে কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও রয়েছে ভিন্নতা।
পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেতু নির্মাণের জন্য ১৭ মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় নয় মাস পার হয়েছে। বাকি রয়েছে আট মাস। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ-স্বরূপকাঠি থেকে পিরোজপুর সড়কের নাপিতখালী খালের ওপর থাকা পুরোনো সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে পুরোনো সেতুর পাশে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৯ মার্চ পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স।
সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, কাজের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ে সেতু নির্মাণ শেষ হবে না। এতে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু দিয়ে চলাচলের ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হবে।
নাপিতখালী এলাকার বাসিন্দা মো. ফরিদ শেখ বলেন, ‘বর্তমান সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশে আরেকটি সেতুর কাজ শুরু হলেও দু-তিন মাস পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ধীরগতিতে কাজ চললে সেতুর নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’
জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মেহেদী সরোয়ার বলেন, ‘সড়কপথে উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখানে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু কাজ করার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।’
নির্মাণকাজের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে গৌতম সাহা বলেন, খালে পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে প্রায় পাঁচ মাস কাজ বন্ধ ছিল। আগামী কালীপূজার পর আবার কাজ শুরু হবে। শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তিনি জানান, সেতুর জন্য খালে মোট ৬৮টি পাইলের মধ্যে ৪৮টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি পাইলগুলো পর্যায়ক্রমে বসানো হবে। তবে পুরো সেতুর কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের পরিচালক মো. মাসুদ খান বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে জমির ব্যবস্থা করতে সময় লেগেছে। পাশাপাশি খালে পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণেও কাজ করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, খালে পানির স্রোত বেশি থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। সেতুটির নির্মাণকাজের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। যতটুকু কাজ হয়েছে, সেই অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
মতামত