সচরাচর কোন নামীদামী ব্যক্তির জন্মদিন মহাস্বাড়ম্বরে পালিত হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক মহাপুরুষের জন্মদিন কখন আমরা মনেই রাখি না। যেন এই নামের কেউ ই ছিলো না। অথচ যাঁদের জন্ম না হলে এই দেশটাই আসতো কি না সন্দেহ আছে।
গত ২৬ শে অক্টোবর কোনো ধরনের আড়ম্বর বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নীরবেই পার হয়ে গেল অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু শেখ সাহেবের রাজনৈতিক ওস্তাদ বাংলার বাঘ শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মদিবস। বাঙালির অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে যাওয়া অকূতভয় এই মহাপুরুষের স্মরণে সারা দেশের কোথাওছিলো না কোন অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা বা দোয়ার আয়োজন। যাঁরা সাহিত্য কিংবা রাজনীতি চর্চা করেন তাঁরা আজ হতবাক ও বিমূঢ়।
১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের সাটুরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। সুতীক্ষ্ম মেধা ও অসামান্য বাগ্মিতার জন্য তিনি 'শের-ই-বাংলা' বা 'বাংলার বাঘ' উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। বাঙালি সমাজ, দেশ ও জাতি গঠনে তাঁর অবদান অতুলনীয় ও অনস্বীকার্য। বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত, নীপিড়ীত কৃষক সমাজকে ভূস্বামী বা জমিদারদের অমানবিক, পশুত্বসম অত্যাচারের হীংশ্র থাবা থেকে মুক্ত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল চিরন্তন অবিস্বরনীয় ও ঐতিহাসিক। তাঁর হাত ধরেই গঠিত হয়েছিল 'ঋণ সালিশী বোর্ড', যা কোটি কোটি নিঃস্ব কৃষককে দেনার দায় থেকে মুক্তি দিয়েছিল। তিনিই প্রজাস্বত্ব আইন পাসের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের জমির মালিকানা নিশ্চিত করেন।
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতেও তাঁর অবদান ছিলো অসামান্য। কলকাতার ঐতিহাসিক লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ঢাকার ইডেন কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রত্যক্ষ অবদান চিরস্মরণীয়। ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক হিসেবে তিনি বাঙালি মুসলিমদের রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এই মহান নেতার জন্মদিন কী না নীরবে চলে গেলো আমরা জানতেই পারিনি। হায় রে বাঙ্গালী!!
মতামত