প্রফেসর ড. দিপু সিদ্দিকী
মানুষের জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তাঁর আদর্শ, মূল্যবোধ ও কর্মের প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হতে পারে। বিশেষত একজন পিতা যখন তাঁর সন্তানদের মধ্যে শিক্ষা, সততা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বীজ বপন করেন, তখন সেই বীজ একসময় বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে মহীরুহ হয়ে ওঠে। আলহাজ্ব এ. কে. এম. জিল্লুর রহমান তেমনই এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, যাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের সামনে পিতৃত্বের মহিমা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা তুলে ধরে।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এই মহান ব্যক্তিত্বকে। একই সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এইচ. বি. এম. ইকবাল এবং তাঁর প্রয়াত সহধর্মিণী ডা. মমতাজ বেগমের শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের পেছনে যে পারিবারিক অনুপ্রেরণা ও মূল্যবোধ কাজ করেছে, তার তাৎপর্যকে।
পিতার আদর্শ থেকে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণ
একজন মানুষের প্রকৃত কৃতিত্ব কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকে না; তাঁর চিন্তা, শিক্ষা ও আদর্শের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম কতটা আলোকিত হয়, তার মধ্যেও সেই কৃতিত্বের প্রকৃত মূল্য নিহিত থাকে। সন্তানকে সুশিক্ষিত করে তোলা মানে শুধু তাকে জীবিকা অর্জনের উপযোগী করে গড়ে তোলা নয়; বরং তাকে বিবেকবান, দায়িত্বশীল ও সমাজের প্রতি সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
ড. এইচ. বি. এম. ইকবালের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের পেছনে তাঁর পিতা আলহাজ্ব এ. কে. এম. জিল্লুর রহমানের অনুপ্রেরণা ও পারিবারিক শিক্ষার ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত মূল্যবোধ যখন ব্যক্তিগত জীবনকে অতিক্রম করে জনকল্যাণের কর্মসূচিতে রূপ নেয়, তখন একটি পরিবারের অর্জন বৃহত্তর সমাজের সম্পদে পরিণত হয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে আলহাজ্ব জিল্লুর রহমানের জীবন ও উত্তরপ্রজন্মের কর্মকাণ্ড আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—একজন আদর্শ পিতা কেবল একটি পরিবার গড়ে তোলেন না, তিনি ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মাণেরও ভিত্তি স্থাপন করেন।
শিক্ষা বিস্তারে একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ
বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা এবং নারীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা জাতীয় উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। এই বাস্তবতায় ডা. এইচ. বি. এম. ইকবাল ও তাঁর প্রয়াত সহধর্মিণী ডা. মমতাজ বেগমের শিক্ষাবিষয়ক উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিষ্ঠিত ডা. মমতাজ বেগম ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে, তা আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। ভৈরবে একটি বৃহৎ শিক্ষাপল্লী বা এডুকেশন সিটি গড়ে তোলার উদ্যোগের মূল তাৎপর্য এখানেই—শিক্ষার জন্য যেন প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক সুযোগের ওপর নির্ভর করতে না হয়।
অন্যদিকে, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণামনস্কতা এবং কর্মমুখী জ্ঞানচর্চার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা যথাযথভাবে বিকশিত হলে জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন: শিক্ষার সাফল্য কেবল প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো কিংবা শিক্ষার্থীর সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে, যখন শিক্ষার্থী জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগের চূড়ান্ত মূল্যায়নও হওয়া উচিত এই মানদণ্ডে।
বাণিজ্যিকতার ঊর্ধ্বে শিক্ষার মানবিক দর্শন
বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। অথচ কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন কেবল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ থেকে বঞ্চিত না হয়—এটি একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক অঙ্গীকার।
ডা. এইচ. বি. এম. ইকবাল ও ডা. মমতাজ বেগমের শিক্ষা উদ্যোগের তাৎপর্য বিচার করতে গেলে এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, নারীশিক্ষার প্রসার এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির প্রচেষ্টা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত করতে পারে।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মর্যাদা শুধু তার নাম, ভবন কিংবা শিক্ষার্থীসংখ্যায় নির্ধারিত হয় না। নির্ধারিত হয় কতজন শিক্ষার্থীর জীবন বদলাতে পেরেছে, কতজনকে কর্মদক্ষ করে তুলেছে, কতজনকে আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করেছে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছে—তার ভিত্তিতে।
এই উপলব্ধি থেকেই শিক্ষাকে কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের সোপান হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ন্যায়, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও মানবিক উন্নয়নের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের জন্য শিক্ষার শিক্ষা
ডা. এইচ. বি. এম. ইকবালের জীবনদর্শন সম্পর্কে আলোচনায় শ্রীলঙ্কা সফরের অভিজ্ঞতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্ণিত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, স্বাধীনতার পরপর শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে তিনি দেশটির শিক্ষার অগ্রগতি ও উচ্চ সাক্ষরতার হার দেখে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তখন বাংলাদেশের শিক্ষা ও সাক্ষরতার পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি প্রতিকূল।
একটি অপেক্ষাকৃত ছোট দ্বীপরাষ্ট্র যদি শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না—এমন প্রশ্ন তাঁর চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে জানা যায়। এই উপলব্ধি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতি তাঁর আগ্রহকে আরও জোরালো করে তোলে।
এই অভিজ্ঞতার অন্তর্নিহিত শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক। কোনো দেশের ভৌগোলিক আয়তন, প্রাকৃতিক সম্পদ কিংবা জনসংখ্যা এককভাবে তার উন্নয়নের ভাগ্য নির্ধারণ করে না। একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার শিক্ষিত, দক্ষ, সৃজনশীল ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ। শিক্ষা যখন মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, কর্মদক্ষতা বাড়ায় এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করে, তখনই তা জাতীয় উন্নয়নের কার্যকর শক্তিতে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের জন্য তাই শিক্ষাকে ব্যয় হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সক্ষমতা নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। এই বিনিয়োগের ফল শুধু কর্মসংস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক গতিশীলতা এবং জাতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণেও ভূমিকা রাখে।
জিল্লুর রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজ: স্মৃতিকে প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া
প্রয়াত পিতার নামের সঙ্গে যুক্ত জিল্লুর রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামকরণও স্মৃতি ও শ্রদ্ধাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারণ করার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে।
একজন পিতার স্মৃতিকে যদি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, যে প্রতিষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে, তাহলে সেই স্মৃতি নিছক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা শিক্ষার দৈনন্দিন চর্চায়, শিক্ষার্থীদের স্বপ্নে এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রচেষ্টায় জীবন্ত হয়ে থাকে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য তখনই প্রকৃত অর্থে অর্থবহ হয়, যখন তার শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। এই মূল্যবোধগুলোই একটি পরিবার থেকে সমাজে, সমাজ থেকে রাষ্ট্রে এবং এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।
দক্ষ মানবসম্পদ গঠন: শিক্ষার সঙ্গে জাতীয় উন্নয়নের যোগসূত্র
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। দেশীয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও বাংলাদেশের কর্মীদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তাই শুধু ডিগ্রি প্রদান করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতায় প্রস্তুত করা। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি দেশে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে এবং বৈধ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবাহকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
ড. এইচ. বি. এম. ইকবাল ও ডা. মমতাজ বেগমের শিক্ষা উদ্যোগের সম্ভাবনাকে এ কারণেই বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান, গবেষণা, শিক্ষক উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ জোরদার করা গেলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবে।
একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সংযোগ বজায় রাখা জরুরি। কারণ দক্ষতা মানুষকে কর্মক্ষম করে, আর নৈতিকতা তাকে সেই সক্ষমতা মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের প্রেরণা দেয়।
মৃত্যুবার্ষিকী: স্মরণ, মূল্যায়ন ও অঙ্গীকারের দিন
মৃত্যুবার্ষিকী কেবল অতীতের কোনো ব্যক্তিকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণেরও উপলক্ষ। আলহাজ্ব এ. কে. এম. জিল্লুর রহমানের স্মৃতির প্রতি যথার্থ সম্মান জানাতে হলে তাঁর পরিবার ও উত্তরপ্রজন্মের শিক্ষা, মানবিকতা ও সমাজকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত ইতিবাচক মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করতে হবে।
একটি পরিবারের প্রকৃত উত্তরাধিকার তার সম্পদ কিংবা সামাজিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রকৃত উত্তরাধিকার হলো সেই মূল্যবোধ, যা মানুষকে নিজের স্বার্থের বাইরে বৃহত্তর সমাজের কথা ভাবতে শেখায়। একজন পিতার সুশিক্ষা, অনুপ্রেরণা ও আদর্শ যখন সন্তানের কর্মে প্রতিফলিত হয় এবং সেই কর্ম যখন অসংখ্য মানুষের জীবনকে স্পর্শ করে, তখন পিতার অবদানও বৃহত্তর অর্থে সমাজের ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।
আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এই পরিবারের উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত হোক। শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে যাক সমাজের প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের কাছে। নারীশিক্ষা আরও শক্তিশালী হোক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, মানবিকতা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র। আর শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠুক দক্ষ, সৎ, আত্মনির্ভরশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক।
আলহাজ্ব এ. কে. এম. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর জীবন ও পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে শিক্ষা, মানবিকতা এবং জনকল্যাণের ধারাকে আরও এগিয়ে নেওয়াই হবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অন্যতম অর্থবহ উপায়।
মহান আল্লাহ তাঁর জীবনের সব সৎকর্ম কবুল করুন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, তাঁকে রূহের মাগফিরাত দান করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। তাঁর পরিবার ও উত্তরসূরিরা যেন শিক্ষা বিস্তার, মানবিক উন্নয়ন ও সমাজসেবার ইতিবাচক উদ্যোগগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে অব্যাহত রাখতে পারেন—এই কামনা করি।
একজন পিতার আদর্শ যদি একটি প্রজন্মকে আলোকিত করে, আর সেই প্রজন্ম যদি অসংখ্য মানুষের জীবনে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়, তবে সেই পিতার জীবনাবসান হলেও তাঁর প্রভাব কখনো নিঃশেষ হয় না। মানুষের কল্যাণে নিবেদিত কর্মের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকেন—পরিবারে, সমাজে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণায়।
আল্লাহ মরহুম আলহাজ্ব এ. কে. এম. জিল্লুর রহমানকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন।
প্রফেসর ড. দিপু সিদ্দিকী
ডিন, ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস
রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা

মতামত