একটি কঠিন এবং ভয়াবহ সত্য বলছি। যদি এই জাতির প্রকৃত কল্যাণ চান, তবে বিএসটিআই, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন তাদের নিজস্ব ল্যাবগুলোকে বের করে অন্য একটি স্বাধীন সংস্থা বা অথোরিটির আন্ডারে দিতে হবে।
যে রেগুলেট করে, সেই ল্যাব টেস্ট করে, সেই লাইসেন্স দেয়। প্যাকেজ প্রোগ্রাম। সেই কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। কখনো ভাল কিছু আশা করা যাবে না। আমরা কেউ ফেরেশতা নই।
আরও কঠিন কথা বলছি। এই দেশে প্যাকেজড বা প্রসেসড ফুড সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে চাইলে বিএসটিআইয়ের খাদ্য অংশ, এবং ফুড সেইফটি অথোরিটিকে এক করে দিতে হবে। মান, ফুড সেইফটির একটা অংশ মাত্র। কিন্তু সেইফটি, মান এর অংশ নয়। দুই সংস্থার খাদ্য নিয়ে টানাটানি জীবনভর চলতে থাকবে, যদি এটা করা না হয়। ভুগবে হতভাগা জনগণ।
উদাহরণ দিচ্ছি। সম্প্রতি এক গবেষণায় সয়াবিন তেলে হেভিমেটাল মাত্রাতিরিক্ত পাওয়া গেছে। একদিন পরেই বাণিজ্য মন্ত্রী মহোদয় মান দিবসের অনুষ্ঠানে বললেন, সেই তথ্য সঠিক নয়। বিএসটিআই সয়াবিনের ১৯৩ টা নমুনা টেস্ট করে কোনো হেভিমেটাল পায়নি।
এর প্রেক্ষিতে ফুড সেইফটি অথোরিটির কাছে প্রশ্ন। আপনারা কি এবার ১৯৩টা সয়াবিন তেলের নমুনা নিয়ে হেভিমেটাল টেস্ট করে দেখবেন, বিএসটিআইয়ের কথা সঠিক কিনা। এটা করা তো সম্পূর্ণ আপনাদের দায়, দায়িত্ব এবং অধিকার।
আমি দাবি করছি, আপনারা বলুন সয়াবিন তেল হেভিমেটাল মুক্ত কিনা। এই ঘোষণা ফুড সেইফটি অথোরিটিকে দিতে হবে।
আর বিএসটিআই, যেহেতু আপনারা এত সামান্য সময়ে এত নমুনা ভাল পেয়েছেন, তাই সরকারিভাবে আপনারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করুন যে, সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ নিরাপদ। সব কোম্পানিকে নির্দেশ দিন, তারা যেন বোতলের গায়ে ঘোষণা দেয়, তেল সম্পূর্ণ হেভিমেটাল মুক্ত।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে যেদিন তাদের ল্যাবকে স্বাধীন করা হবে, সেদিন একই ঔষধ এক কোম্পানির দাম ৩ টাকা, অন্য কোম্পানির ৩৬ টাকা বন্ধ হয়ে যাবে। অথবা তাদের ঘোষণা দিতে হবে ৩ টাকার ওষুধের কাঁচামাল দুই নম্বর বা আটা ময়দা আছে। অথবা কেন এই পার্থক্য, তা কাগজে কলমে পরিসংখ্যান ও ল্যাব রিপোর্ট জাতির সামনে প্রকাশ করে বুঝিয়ে দিতে হবে।
মতামত