বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ সিলেটের সাহেদ, ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে স্বজনদের সন্দেহ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ সিলেটের সাহেদ, ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে স্বজনদের সন্দেহ

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ হয়েছেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার শেখ সাহেদ আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর সন্ধান দাবি করে এবং ব্যবসায়িক অংশীদার ইমন আহমদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাহেদের স্বজনেরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের হাড়িয়ারগাঁও গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিখোঁজ সাহেদের ভাই শেখ রাসেল। এ সময় বাহরাইনপ্রবাসী আরেক ভাই জাহেদ আহমদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় সাহেদ আহমদের সঙ্গে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের করচা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ইমন আহমদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার অংশীদারি ব্যবসা রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সাহেদ নিখোঁজ হন। ওই রাতেই ইমন বাংলাদেশে অবস্থানরত সাহেদের ভাই শেখ রাসেল ও বাহরাইনপ্রবাসী ভাই জাহেদ আহমদকে ফোন করে জানান, সাহেদ রাতে বাসায় ফেরেননি।

পরদিন ১ অক্টোবর ইমন ফোন করে সাহেদের কাছে ১২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায় সাহেদের ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ইমনের ভাইও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ইমন দাবি করেন, সাহেদ তাঁর পাসপোর্ট নিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছেন। এরপর সাহেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সাহেদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ইমন বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রথমে শুধু পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে পাসপোর্ট ও পারমিট এবং পরবর্তী সময়ে দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়।

স্বজনদের আরও দাবি, ‘সাউথ বাংলা’ ও ‘CK Babul Official’ নামের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওতে ইমন সাহেদের চলে যাওয়ার তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার থানায় করা অভিযোগে ১ অক্টোবর রাতে সাহেদের চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে তাঁরা জানান। এ ছাড়া ব্যবসার মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দাবি, ব্যবসায় সাহেদের অংশীদারি থাকা সত্ত্বেও ইমন পুরো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একক মালিকানা দাবি করার চেষ্টা করছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাহেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁকে অপহরণ বা হত্যার আশঙ্কাও জানিয়েছেন স্বজনেরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইমন আহমদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁরা সাহেদের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিশেষ করে সিলেটিদের কাছে সাহেদের সন্ধান পেতে সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাহেদ আহমদের অবস্থান শনাক্ত, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ সিলেটের সাহেদ, ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে স্বজনদের সন্দেহ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ হয়েছেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার শেখ সাহেদ আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর সন্ধান দাবি করে এবং ব্যবসায়িক অংশীদার ইমন আহমদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাহেদের স্বজনেরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের হাড়িয়ারগাঁও গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিখোঁজ সাহেদের ভাই শেখ রাসেল। এ সময় বাহরাইনপ্রবাসী আরেক ভাই জাহেদ আহমদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় সাহেদ আহমদের সঙ্গে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের করচা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ইমন আহমদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার অংশীদারি ব্যবসা রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সাহেদ নিখোঁজ হন। ওই রাতেই ইমন বাংলাদেশে অবস্থানরত সাহেদের ভাই শেখ রাসেল ও বাহরাইনপ্রবাসী ভাই জাহেদ আহমদকে ফোন করে জানান, সাহেদ রাতে বাসায় ফেরেননি।

পরদিন ১ অক্টোবর ইমন ফোন করে সাহেদের কাছে ১২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায় সাহেদের ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ইমনের ভাইও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ইমন দাবি করেন, সাহেদ তাঁর পাসপোর্ট নিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছেন। এরপর সাহেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সাহেদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ইমন বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রথমে শুধু পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে পাসপোর্ট ও পারমিট এবং পরবর্তী সময়ে দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়।

স্বজনদের আরও দাবি, ‘সাউথ বাংলা’ ও ‘CK Babul Official’ নামের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওতে ইমন সাহেদের চলে যাওয়ার তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার থানায় করা অভিযোগে ১ অক্টোবর রাতে সাহেদের চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে তাঁরা জানান। এ ছাড়া ব্যবসার মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দাবি, ব্যবসায় সাহেদের অংশীদারি থাকা সত্ত্বেও ইমন পুরো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একক মালিকানা দাবি করার চেষ্টা করছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাহেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁকে অপহরণ বা হত্যার আশঙ্কাও জানিয়েছেন স্বজনেরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইমন আহমদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁরা সাহেদের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিশেষ করে সিলেটিদের কাছে সাহেদের সন্ধান পেতে সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাহেদ আহমদের অবস্থান শনাক্ত, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream