মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

দ্রুততম সময়ে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দ্রুততম সময়ে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

পানি সমস্যা সমাধানে যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। সেই সকল শহীদদের স্মরণে আমরা গতকাল (সোমবার) ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। যারা মুখে বলে চব্বিশকে তারা ধারণ করে, কিন্তু আমরা কি দেখলাম? জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে। তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজ, প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে হাজারও মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই... পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে... তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এরই মধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এতে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ হবে। এই উত্তরাঞ্চল তো দেশের শস্যভাণ্ডার। এখানে যেমন পানির কষ্ট হয়, অন্যখানেও হয়। শহীদ জিয়ার সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এই যে বরেন্দ্র প্রকল্প, সেটি শহীদ জিয়ার সময় কার্যকর হয়েছিল। 

পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানির সমস্যা সমাধানে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। বাংলাদেশের পানির হিস্যা পাওয়ার জন্য যতদূর যেতে হয়, সরকার সেই চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহমুদা হাবীবা।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তিস্তা পদ্মা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


দ্রুততম সময়ে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পানি সমস্যা সমাধানে যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। সেই সকল শহীদদের স্মরণে আমরা গতকাল (সোমবার) ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। যারা মুখে বলে চব্বিশকে তারা ধারণ করে, কিন্তু আমরা কি দেখলাম? জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে। তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজ, প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে হাজারও মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই... পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে... তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এরই মধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এতে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ হবে। এই উত্তরাঞ্চল তো দেশের শস্যভাণ্ডার। এখানে যেমন পানির কষ্ট হয়, অন্যখানেও হয়। শহীদ জিয়ার সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এই যে বরেন্দ্র প্রকল্প, সেটি শহীদ জিয়ার সময় কার্যকর হয়েছিল। 

পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানির সমস্যা সমাধানে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। বাংলাদেশের পানির হিস্যা পাওয়ার জন্য যতদূর যেতে হয়, সরকার সেই চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহমুদা হাবীবা।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream