মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়



রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়
রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টায় জুলাইয়ের পর থেকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এতে চলতি নির্বাচনী চক্রে তার মোট রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের।

নির্বাচনী অর্থায়নের নথি থেকে মাস্কের এই ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি নির্বাচনী চক্রে এখন পর্যন্ত একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়কারী রাজনৈতিক দাতা হিসেবে উঠে এসেছে তার নাম।

এদিকে, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মাস্কের পাওয়া সরকারি চুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) পরিচালনার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মাস্কের সুপার প্যাক আমেরিকা প্যাকের একজন মুখপাত্র তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের হিসাব নিশ্চিত করেছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্বাচনী চক্রে জুলাইয়ের পর থেকে দেওয়া ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সিনেটে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী জয়ে সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত এই সুপার প্যাকটি সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর ও সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের সহায়তায় গঠিত কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার। এটি লুইজিয়ানার রিপাবলিকান ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মাস্কের নিজস্ব আমেরিকা প্যাক পেয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার।

টেক্সাসে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মার্কিন সিনেট নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্যাক্সটনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন মাস্ক।

আমেরিকা প্যাক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার অনেক সুপার প্যাকের তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় মাস্কের নতুন অনুদানের তথ্যও জনসমক্ষে আসবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করে না—এমন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমেও অর্থ দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্রের ভাষ্য, চলতি নির্বাচনী চক্রে ব্যয় করা প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ আগের নির্বাচনের কার্যক্রম বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উইসকনসিন সুপ্রিম কোর্টের এক ব্যর্থ প্রার্থীর জন্য সহায়তা এবং বিতর্কিত একটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বাক্‌স্বাধীনতা ও বন্দুক রাখার অধিকারের সমর্থনে পিটিশনে স্বাক্ষরকারী নিবন্ধিত ভোটারদের ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

এর আগের নির্বাচনী চক্রে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সময় মাস্ক প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

বিষয় : নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ইলন মাস্ক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টায় জুলাইয়ের পর থেকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এতে চলতি নির্বাচনী চক্রে তার মোট রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের।

নির্বাচনী অর্থায়নের নথি থেকে মাস্কের এই ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি নির্বাচনী চক্রে এখন পর্যন্ত একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়কারী রাজনৈতিক দাতা হিসেবে উঠে এসেছে তার নাম।

এদিকে, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মাস্কের পাওয়া সরকারি চুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) পরিচালনার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মাস্কের সুপার প্যাক আমেরিকা প্যাকের একজন মুখপাত্র তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের হিসাব নিশ্চিত করেছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্বাচনী চক্রে জুলাইয়ের পর থেকে দেওয়া ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সিনেটে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী জয়ে সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত এই সুপার প্যাকটি সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর ও সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের সহায়তায় গঠিত কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার। এটি লুইজিয়ানার রিপাবলিকান ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মাস্কের নিজস্ব আমেরিকা প্যাক পেয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার।

টেক্সাসে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মার্কিন সিনেট নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্যাক্সটনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন মাস্ক।

আমেরিকা প্যাক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার অনেক সুপার প্যাকের তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় মাস্কের নতুন অনুদানের তথ্যও জনসমক্ষে আসবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করে না—এমন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমেও অর্থ দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্রের ভাষ্য, চলতি নির্বাচনী চক্রে ব্যয় করা প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ আগের নির্বাচনের কার্যক্রম বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উইসকনসিন সুপ্রিম কোর্টের এক ব্যর্থ প্রার্থীর জন্য সহায়তা এবং বিতর্কিত একটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বাক্‌স্বাধীনতা ও বন্দুক রাখার অধিকারের সমর্থনে পিটিশনে স্বাক্ষরকারী নিবন্ধিত ভোটারদের ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

এর আগের নির্বাচনী চক্রে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সময় মাস্ক প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream