মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

চকবাজারে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যা বললেন ডিএসসিসি প্রশাসক


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চকবাজারে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যা বললেন ডিএসসিসি প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

 পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের সমবেদনা জানান। পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ও ব্রিফিং করেন।

​অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তদন্ত ও সার্বিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

​তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী  ব্যাগ তৈরির একটি ফ্যাক্টরি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যার চারপাশে তৈরি পোশাকের একাধিক দোকান ও কারখানার অবস্থান ছিল। আল্লাহর রহমতে ফায়ার সার্ভিস ইতিমধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। দুর্ঘটনাস্থলে অযথা ভিড় না করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজ করার সুযোগ দিলে দ্রুতই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​বারবার চকবাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, পুরান ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কেমিক্যাল লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছে। যার ফলে কেমিক্যাল সংক্রান্ত বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ডের হার আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে।

​অগ্নিকাণ্ডকালে পানির স্বল্পতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরান ঢাকার বর্তমান সংকটাপন্ন অবকাঠামো একদিনে সৃষ্টি হয়নি এবং এটি বর্তমান প্রশাসনের তৈরি নয়; উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুরান ঢাকার বিদ্যমান পুকুরসমূহ সংরক্ষণ ও সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরান ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারকাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

​মার্কেট ও বসতবাড়িতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর তাগিদ দিয়ে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "এটি কেবল আইন করে বাধ্যতামূলক করার বিষয় নয়, নিজেদের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার স্বার্থেই সবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা জরুরি। আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আশেপাশের মার্কেট ও ভবনগুলোতে যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হলে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা অনেক কম হতো।"

​তিনি আরও বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় ধরণের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এরপরেও যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সার্বিক বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

​রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, চকবাজারের রাস্তাঘাটগুলো যদি দখলমুক্ত থাকতো, তবে ফায়ার সার্ভিস বহর অনেক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারতো। তাই যত্রতত্র অবৈধ দোকান না বসানো এবং রাস্তা ও ফুটপাত সর্বসাধারণ ও জরুরি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

গতকাল বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারাস্থ এসি মসজিদের পাশে ‘মনজুর খান প্লাজা’র ছয়তলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী আরেকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিষয় : দুর্ঘটনা চকবাজার পরিদর্শন ডিএসসিসি প্রশাসক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


চকবাজারে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যা বললেন ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

 পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের সমবেদনা জানান। পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ও ব্রিফিং করেন।

​অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তদন্ত ও সার্বিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

​তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী  ব্যাগ তৈরির একটি ফ্যাক্টরি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যার চারপাশে তৈরি পোশাকের একাধিক দোকান ও কারখানার অবস্থান ছিল। আল্লাহর রহমতে ফায়ার সার্ভিস ইতিমধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। দুর্ঘটনাস্থলে অযথা ভিড় না করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজ করার সুযোগ দিলে দ্রুতই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​বারবার চকবাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, পুরান ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কেমিক্যাল লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছে। যার ফলে কেমিক্যাল সংক্রান্ত বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ডের হার আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে।

​অগ্নিকাণ্ডকালে পানির স্বল্পতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরান ঢাকার বর্তমান সংকটাপন্ন অবকাঠামো একদিনে সৃষ্টি হয়নি এবং এটি বর্তমান প্রশাসনের তৈরি নয়; উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুরান ঢাকার বিদ্যমান পুকুরসমূহ সংরক্ষণ ও সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরান ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারকাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

​মার্কেট ও বসতবাড়িতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর তাগিদ দিয়ে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "এটি কেবল আইন করে বাধ্যতামূলক করার বিষয় নয়, নিজেদের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার স্বার্থেই সবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা জরুরি। আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আশেপাশের মার্কেট ও ভবনগুলোতে যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হলে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা অনেক কম হতো।"

​তিনি আরও বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় ধরণের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এরপরেও যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সার্বিক বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

​রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, চকবাজারের রাস্তাঘাটগুলো যদি দখলমুক্ত থাকতো, তবে ফায়ার সার্ভিস বহর অনেক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারতো। তাই যত্রতত্র অবৈধ দোকান না বসানো এবং রাস্তা ও ফুটপাত সর্বসাধারণ ও জরুরি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

গতকাল বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারাস্থ এসি মসজিদের পাশে ‘মনজুর খান প্লাজা’র ছয়তলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী আরেকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream