মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
চকবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও আগুন ধরতে পারে: ফায়ার সার্ভিস

চকবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও আগুন ধরতে পারে: ফায়ার সার্ভিস

পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজা মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ১২ থেকে ১৪টি গুদামসহ সাত-আটটি দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১২ থেকে ১৪টি গুদাম থাকা ছয়তলায় আগুন বেশি ছড়ায়। সাততলার কিছু অংশও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানো ও পানি দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে চকবাজারে প্রেস ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান এসব তথ্য জানান। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, মার্কেটের ছাতা, প্রসাধনী, আতর ও আতরের বোতলসহ বিভিন্ন পণ্যে গুদামগুলো পরিপূর্ণ ছিল। এসব পণ্যের নিচে তাপ ও ধোঁয়া থাকায় সেগুলো সরিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। মালামাল সরানো না হলে আবার আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে লালবাগ, সদর দপ্তর সিদ্দিকবাজার ও পলাশী থেকে ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোর ৫টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, ছয়তলা ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ ছিল। গুদামগুলো শাটার ও একাধিক তালা দিয়ে বন্ধ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে তালা কেটে গুদামে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের। অগ্নিকাণ্ডের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে কাজী নাজমুল জামান বলেন, চকবাজারের সরু সড়ক ও যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার ফাইটারদের প্রচণ্ড তাপের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। আশপাশের পানির রিজার্ভারগুলো বারবার খালি হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহেও সমস্যা হয়েছে। পরে রিজার্ভার পরিবর্তন করে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালানো হয়। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা থাকলেও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আগুন যেন আশপাশের মার্কেট ও ভবনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। মার্কেটের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা সহযোগিতা করেছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষও পানি সরবরাহ করেছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন আশপাশের মার্কেটগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নিহত বা অন্য কারও আহত হওয়ার খবর তাঁদের কাছে নেই। গুদামে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আগুনের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেগুলো ব্যবহার করে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। আগুনের ধরন বিবেচনায় এটি সলিড ফায়ার হওয়ায় পানি ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি বা পেট্রোলজাতীয় পদার্থে আগুন লাগলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফোম ব্যবহার করা হতো।

চকবাজারে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যা বললেন ডিএসসিসি প্রশাসক

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।  পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের সমবেদনা জানান। পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ও ব্রিফিং করেন। ​অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তদন্ত ও সার্বিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। ​তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী  ব্যাগ তৈরির একটি ফ্যাক্টরি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যার চারপাশে তৈরি পোশাকের একাধিক দোকান ও কারখানার অবস্থান ছিল। আল্লাহর রহমতে ফায়ার সার্ভিস ইতিমধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। দুর্ঘটনাস্থলে অযথা ভিড় না করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজ করার সুযোগ দিলে দ্রুতই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ​বারবার চকবাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, পুরান ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কেমিক্যাল লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছে। যার ফলে কেমিক্যাল সংক্রান্ত বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ডের হার আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে। ​অগ্নিকাণ্ডকালে পানির স্বল্পতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরান ঢাকার বর্তমান সংকটাপন্ন অবকাঠামো একদিনে সৃষ্টি হয়নি এবং এটি বর্তমান প্রশাসনের তৈরি নয়; উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুরান ঢাকার বিদ্যমান পুকুরসমূহ সংরক্ষণ ও সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরান ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারকাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। ​মার্কেট ও বসতবাড়িতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর তাগিদ দিয়ে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "এটি কেবল আইন করে বাধ্যতামূলক করার বিষয় নয়, নিজেদের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার স্বার্থেই সবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা জরুরি। আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আশেপাশের মার্কেট ও ভবনগুলোতে যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হলে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা অনেক কম হতো।" ​তিনি আরও বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় ধরণের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এরপরেও যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সার্বিক বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ​রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, চকবাজারের রাস্তাঘাটগুলো যদি দখলমুক্ত থাকতো, তবে ফায়ার সার্ভিস বহর অনেক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারতো। তাই যত্রতত্র অবৈধ দোকান না বসানো এবং রাস্তা ও ফুটপাত সর্বসাধারণ ও জরুরি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেন তিনি। গতকাল বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারাস্থ এসি মসজিদের পাশে ‘মনজুর খান প্লাজা’র ছয়তলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী আরেকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চকবাজারে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যা বললেন ডিএসসিসি প্রশাসক
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream