শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, টিকাদান কার্যক্রমের গুণগত মান উন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে আজ শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের ২নং ও ৩নং ওয়ার্ডে পরিচালিত হাম-রুবেলা (MR) মপ-আপ ক্যাম্পেইন ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দের একটি বৃহৎ দল।
উক্ত পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার সম্মানিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. সিনথিয়া তাসমিন, সম্মানিত MODC ডা. সুভাষ দেবনাথ স্নিগ্ধ এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোঃ মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীগণ।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল মাঠপর্যায়ে পরিচালিত হাম-রুবেলা মপ-আপ ক্যাম্পেইনের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। টিকাদান কেন্দ্রসমূহে শিশুদের টিকাদান কার্ড যাচাই, টিকাদানসংক্রান্ত নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং কার্যক্রমের সঠিকতা ও মান যাচাই করা হয়।
পাশাপাশি মা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে টিকাদান সম্পর্কে তাঁদের সচেতনতা, আগ্রহ এবং টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়।
এছাড়া নারী ও মায়েদের ধনুষ্টংকার প্রতিরোধী টিকা গ্রহণসংক্রান্ত কার্ড ও তথ্য যাচাই করা হয়। টিকা গ্রহণের গুরুত্ব, নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ এবং টিকা-পরবর্তী সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মা ও অভিভাবকদের যথাযথ কাউন্সেলিং করা হয়।
টিকা গ্রহণের পর কোনো শিশু বা নারী শারীরিক সমস্যা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা, সে বিষয়েও বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালন, টিকাদান কার্যক্রমের মান, উপকারভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সার্বিক কর্মতৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো শিশু যেন টিকাদানের আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরিদর্শন শেষে শ্রীমঙ্গল উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক কর্মযজ্ঞ, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতায় WHO ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা চলমান কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীকে তাঁদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁদের এই সন্তুষ্টি ও প্রশংসা মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভবিষ্যৎ কর্মপ্রেরণা আরও বৃদ্ধি করবে বলে আমরা আশাবাদী।
হাম-রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় WHO, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের এই সমন্বিত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুস্থ শিশু, নিরাপদ আগামী—টিকাদানে হোক না কোনো অবহেলা।
মতামত