শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সমঅধিকারের পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সমঅধিকারের পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর কোনো বিভাজন থাকবে না। বরং প্রত্যেক নাগরিকের পরিচয় হবে বাংলাদেশি। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে সবাই সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। নাগরিকদের এসব অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা ও উৎসবের দিন গণনা।

এ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান মাহদী আমিন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাধা পেরিয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার প্রতীক। অশুভ শক্তির বিপরীতে শুভ শক্তির বিজয় এবং অন্ধকার দূর করে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় এই উৎসব। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় আজকের আয়োজন হচ্ছে, সেটি প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি দেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা সত্ত্বেও সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণ ও দুর্গোৎসবের সফলতা কামনা করেন তিনি।

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য বা বিভেদের শিকার না হন, সেই প্রত্যাশা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে ও আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচবেন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও সবাই সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দীর্ঘ সময় পর এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিবেচনায় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে উৎসবের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সমাজের বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এমন একটি মানবিক সমাজ গড়তে হবে, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিভেদের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের সম্মিলিত প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার মানসিকতাই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মূল প্রেরণা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার জনগণের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সামগ্রিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এ লক্ষ্যেই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাহদী আমিন বলেন, মহালয়ার তাৎপর্য ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের সূচনা সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সমঅধিকারের পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর কোনো বিভাজন থাকবে না। বরং প্রত্যেক নাগরিকের পরিচয় হবে বাংলাদেশি। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে সবাই সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। নাগরিকদের এসব অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা ও উৎসবের দিন গণনা।

এ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান মাহদী আমিন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাধা পেরিয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার প্রতীক। অশুভ শক্তির বিপরীতে শুভ শক্তির বিজয় এবং অন্ধকার দূর করে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় এই উৎসব। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় আজকের আয়োজন হচ্ছে, সেটি প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি দেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা সত্ত্বেও সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণ ও দুর্গোৎসবের সফলতা কামনা করেন তিনি।

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য বা বিভেদের শিকার না হন, সেই প্রত্যাশা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে ও আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচবেন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও সবাই সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দীর্ঘ সময় পর এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিবেচনায় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে উৎসবের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সমাজের বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এমন একটি মানবিক সমাজ গড়তে হবে, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিভেদের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের সম্মিলিত প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার মানসিকতাই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মূল প্রেরণা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার জনগণের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সামগ্রিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এ লক্ষ্যেই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাহদী আমিন বলেন, মহালয়ার তাৎপর্য ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের সূচনা সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream