প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন, ভারতের সমর্থন ও আশীর্বাদের কারণেই আওয়ামী লীগ ১৬ বছর ক্ষমতায় টিকে ছিল। বর্তমানে ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, এসব ঘটনার মাধ্যমে ভারতকে এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সনাতন ধর্মের মানুষ বেশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে। এভাবে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই উৎসবকে ঘিরে আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করতে পারে—এমন তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার অভিযোগ, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সেটিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন হিসেবে তুলে ধরে ভারতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হতে পারে।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান রাশেদ খাঁন। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান, যাতে কোনো গোষ্ঠী ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো মুসলমানের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও ভারতের কিছু গণমাধ্যম সেটিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা হিসেবে প্রচার করে বলে তিনি মনে করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করছে। এই সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা কেউ করলে তা প্রতিহত করা হবে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
মতামত