শুধু অভিনয় নয়, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা এবং সাদাসিধে জীবনযাপনের কারণেও মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকর। ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে বাঁচাতে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে টানা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অনেকেরই হয়তো জানা নেই, অভিনয়ের পাশাপাশি নানা পাটেকরের সঙ্গে সেনাবাহিনীরও ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না, বরং তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সংঘাতের সময় সেনাদের সঙ্গে কাজও করেছেন।
আশির দশকের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে যোগ দেন নানা পাটেকর। পরে ১৯৯১ সালের সিনেমা ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’-এ সেনাবাহিনীর কমান্ডোর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি টানা তিন বছর প্রশিক্ষণ নেন। চরিত্রটি বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তুলতে কোনো ধরনের শর্টকাট নিতে চাননি তিনি। এ সময় মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন নানা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
এরপর ১৯৯৯ সালে ভারত-পাকিস্তান কার্গিল যুদ্ধ শুরু হলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করার অনুমতি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে যান নানা পাটেকর। তাকে জানানো হয়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু প্রতিরক্ষামন্ত্রীর রয়েছে। তারপর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছে সরাসরি আবেদন করেন তিনি। ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে সম্মুখসারিতে থাকার অনুমতি চান নানা। নিজের শুটিং দক্ষতা এবং অর্জিত একটি পদকের কথাও মন্ত্রীকে জানান তিনি।
অনুমতি পাওয়ার পর নানা পাটেকর তার চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে সাময়িক বিরতি দেন এবং সেনাবাহিনীর কুইক রিঅ্যাকশন টিমে (কিউআরটি) যোগ দেন। প্রায় ৬০ দিন তিনি সেনাদের সঙ্গে কাটান শ্রীনগর, দ্রাস, লেহসহ বিভিন্ন এলাকায়।
কার্গিল যুদ্ধের সময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালনের কথা নানা পাটেকর একাধিকবার স্মরণ করেছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় তার ওজন ছিল ৭৬ কেজি। কিন্তু ৬০ দিন পর ফিরে আসার সময় তার ওজন কমে দাঁড়িয়েছিল ৫৬ কেজিতে।
মতামত